মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

নতুন বছরের আগমনে মুসলিমের করণীয়

প্রতি বছর যেমন নতুন পাতা ফোটে, তেমনি নতুন বছরের আগমনে আমাদের জীবনে নতুন কিছু শুরু হয়। যা আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য, সময়ের মূল্য এবং আখিরাতের প্রস্তুতির দিকে আরও গভীরভাবে ভাবতে শেখায়। গত বছরের আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা, সুখময় স্মৃতি, দুঃখ-বেদনার ঘটনা সবই আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে থেকে যায়। আর সে বিদায় নেয়। বছরের পরিসমাপ্তি মানে ক্ষণস্থায়ী […]

নিউজ ডেস্ক

৩০ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৭:৪৪

প্রতি বছর যেমন নতুন পাতা ফোটে, তেমনি নতুন বছরের আগমনে আমাদের জীবনে নতুন কিছু শুরু হয়। যা আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য, সময়ের মূল্য এবং আখিরাতের প্রস্তুতির দিকে আরও গভীরভাবে ভাবতে শেখায়।

গত বছরের আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা, সুখময় স্মৃতি, দুঃখ-বেদনার ঘটনা সবই আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে থেকে যায়। আর সে বিদায় নেয়। বছরের পরিসমাপ্তি মানে ক্ষণস্থায়ী জীবনের একটি বসন্ত শেষ হয়ে যাওয়া, আর এভাবেই আমরা আমাদের জীবনের লক্ষ্যের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাই।

জীবন ও সময়ের মূল্য

শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহ. তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘কিমাতুয যামান ইনদাল উলামা’-তে লিখেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, ‘আমি কোনো জিনিসের প্রতি এতটা লজ্জিত ও অনুতপ্ত হই না, যতটা দিনের যবনিকাপাতে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হই। কারণ একটি দিনের পরিসমাপ্তি মানে আমার এক দিন কমে যাওয়া, এবং সেদিনে আমার আমল বৃদ্ধি না পাওয়া।’ (পৃষ্ঠা ২৭)

হাসান বসরি রহ. বলেন, হে আদম সন্তান, তোমরা তো সময়ের সমষ্টি। যখন এক দিন অতিবাহিত হয়ে যায়, তখন মনে করো যে তোমাদের একটি অংশও চলে গেছে।’

সময়ের ব্যবহার ও আখিরাতের প্রস্তুতি

যে সময় আল্লাহ তায়ালা আমাদের দিয়েছেন, তা কেবল আখিরাতের প্রস্তুতির জন্যই। আমরা এই সময়ের মাধ্যমে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারি, এবং নিজেদের আমলকে পরিশুদ্ধ করতে পারি।

হজরত আলী রা. বলেন, ‘সময় হলো তোমাদের জীবনের পাণ্ডুলিপি। তোমরা এই পাণ্ডুলিপি নিজেদের ভালো কর্মের মাধ্যমে পূর্ণ করো।’ (আনমুল হিরে, পৃষ্ঠা. ১৬; মাতায়ে ওয়াক্ত আওর কারওয়ানে ইলম, পৃ. ৫৫)

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য হলো অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩১৭)

নতুন বছরের আগমনে মুসলিমের করণীয়

হাদিসের কিতাবে নতুন মাস ও নতুন বছরের প্রথম মাস সংক্রান্ত কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন নবী কারিম সা.-এর সাহাবিরা নতুন মাস বা নতুন বছরের প্রথম মাসে এই দোয়া পড়তেন-

‘আল্লাহুম্মা উদ খিল হু আলাইনা বিল-আমনি ওয়াল ইমান ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম ওয়া রিদওয়ানিম মিনার রহমানি ওয়া জিওয়াযিম মিনাশ শায়তানি।’

দোয়াটির অর্থ হলো : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মাঝে এ মাস বা বছরের আগমন ঘটান শান্তি ও নিরাপত্তা, ঈমান ও ইসলামের সাথে, শয়তান থেকে সুরক্ষা এবং দয়াময় আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে।’(মুজামুস সাহাবাহ খ. ৩, পৃষ্ঠা. ৫৪৩, বর্ণনা ১৫৩৯)

আমাদেরও এই দোয়া আমল করা উচিত, এবং আরও দুটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। নতুন বছর আমাদের দুটি বিষয় চিন্তা করতে শেখায় ১.অতীতের হিসাব-নিকাশ ২.পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি।

অতীতের হিসাব-নিকাশ

নতুন বছর আমাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের হিসাব-নিকাশের দিকে ইঙ্গিত দেয়। গত বছর আমরা কী অর্জন করেছি এবং কী হারিয়েছি? পরকালীন জীবনের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছি? নতুন বছরের আগমন মানে আমাদের পরকালের যাত্রা আরও কাছে চলে এসেছে।

তাই মৃত্যুর আগেই আমাদের হিসাব-নিকেশ পরিষ্কার করা প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,‘আমি তোমাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করবে তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগে।’ (সুরা: মুনাফিকুন, আয়াত: ১০)

পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি

নিজেদের হিসাব-নিকাশ করার পর, ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করা এবং সেগুলো সংশোধন করার পরিকল্পনা তৈরি করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন,‘এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে।’ (সুরা: নাজম, আয়াত: ৩৯)

আল্লাহর প্রিয় হাবিব রসুল সা. বলেন, ‘পাঁচটি বস্তুকে পাঁচটির আগে মূল্যায়ন করো, বার্ধক্যের আগে তোমার যৌবন, অসুস্থতার আগে তোমার সুস্থতা, দারিদ্র্যের আগে তোমার ধন-সম্পদ, ব্যস্ততার আগে তোমার অবসর, এবং মরণের আগে তোমার জীবন।’ (বাইহাকি, শুআবুল ইমান, হাদিস: ১০২৪৮)

নতুন বছরের আগমন একজন প্রকৃত মুসলিমকে আনন্দ-উল্লাসের পরিবর্তে চিন্তা-ভাবনার দিকে পরিচালিত করে। এটি তাকে মনে করিয়ে দেয় যে তার জীবন ও বয়সের সীমারেখা ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে।

জীবনের এত আয়োজন ও উৎসবের কি প্রয়োজন? বরং যদি জীবনের সূর্য চিরতরে অস্তমিত হয়ে যায়, তখন কী হবে?
আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, আমিন।

লেখিকা, প্রিয়া ইসলাম

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)। লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে […]

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

নিউজ ডেস্ক

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৪

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)।

লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে চান। এর আগে সেন্ট্রাল সি তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে জনসমক্ষে খুব একটা কথা বলেননি।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০২১ সালের দিকে সেন্ট্রাল সি ইউকে র‍্যাপ জগতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ব্রিটিশ র‍্যাপার হিসেবে একটি একক প্ল্যাটফর্মে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অর্জনের রেকর্ড রয়েছে তার। ড্রেক (Drake) এবং জে. কোল (J. Cole)-এর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সাথে কাজ করে তিনি গত কয়েক বছরে সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছেন।

নিজের দ্রুত উত্থান সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সবকিছু এতো দ্রুত ঘটছে যে মাঝে মাঝে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। আমি এতোদিন ধরে এতো দ্রুত দৌড়াচ্ছি যে এসব নিয়ে ভাবার সময়টুকুও পাইনি।

পেশাদার জীবনের এই ব্যস্ততার মাঝে তার এই ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক পরিবর্তন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার অনুসারীরা তাকে শুভকামনা জানাচ্ছেন। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে তার এই সিদ্ধান্তকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।