মোঃ মেহেদী হাসান, ঢাকা(মহানগর প্রতিনিধি):
নতুন বছর উদযাপনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে রয়েছে নানা ধরনের উৎসবমুখর আয়োজন। বাংলাদেশ কী তার ব্যাতিক্রম? না, বাংলাদেশও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিনটি উৎযাপন করা হয়। আমাদের দেশে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের একটি জনপ্রিয় রীতি হলো ফানুস ও আতসবাজি ফোটানো।
যদিও এটি দেখতে মনোমুগ্ধকর, তবে আমরা কী প্রকৃতির কান্না শুনতে পাই? ছোট্ট চড়ুই টা বলে, “হঠাৎ কী শুরু হলো এই গভীর রাতে,দেখি একটু বেড়িয়ে” ঘরে আর ফেরা হলো না চড়ুইয়ের!! এতো এক চড়ুইয়ের গল্প, সব কৃৎপতঙ্গ ও পাখিরো হয় একই পরিস্থিতি। এর দায়ভার কী সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের নয়?
প্রকৃতি রক্ষা করার দায়িত্ব কার? বাঁচতে পারবে না কী পতঙ্গকূল? কী দোষ ছিলো ওদের? পৃথিবীতে পতঙ্গ হয়ে জন্ম নেওয়ায় কী অপরাধ? এ কেবল পতঙ্গকূলের হয়ে। পাশের বাসার বৃদ্ধ সলিমুল্লা চাচা থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজির শব্দ শুনে আতঙ্কে হার্ডাটাক করে, হাসপাতালে নিতে নিতে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে পারলো গমন করে। এ কেবল এক সলিমুল্লাহ চাচার গল্প, এরকম হাজারো নবজাতক সহ বৃদ্ধদের জীবনাবসান ঘটছে, ফানুসের আগুনে পুড়ছে ঘরবাড়ি। গল্পগুলো অনেক পরিচিত।
তবে আমাদের পরিবেশ ও প্রকৃতি এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবে না কী? চলুন বদলে যায়!!
আতশবাজি ফোটানো ও ফানুস উড়ানোর ক্ষতিকর দিক_ বায়ু দূষণ: আতসবাজি ফোটানোর সময় বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ যেমন সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে মিশে যায়। এগুলো শুধু বায়ুর মান কমিয়ে আনে না, বরং মানুষের ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও ত্বকের জন্যও ক্ষতিকর।
শব্দ দূষণ: আতসবাজির উচ্চ শব্দ শুধু মানুষেরই নয়, পোষা প্রাণী ও বন্যপ্রাণীর জন্যও অত্যন্ত কষ্টদায়ক। বিশেষত শিশু ও বয়স্ক মানুষদের জন্য এই শব্দ মানসিক চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
পাখি ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি: ফানুস ও আতসবাজির আলো এবং শব্দ পাখি ও বন্যপ্রাণীদের দিক নির্ধারণে সমস্যা সৃষ্টি করে। আতঙ্কে তারা বাসা ছেড়ে পালায় এবং খাদ্য বা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়ে। অনেক পাখি মারা যায়।
জল দূষণ: আতসবাজি ও ফানুসের অবশিষ্টাংশ জলাশয়ে মিশে গিয়ে জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর হয়। এর রাসায়নিক উপাদানগুলো জলজ প্রাণীদের শারীরিক বৃদ্ধি ও প্রজননে বাধা সৃষ্টি করে।
আগুন লাগার ঝুঁকি: ফানুস থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। শুষ্ক শীতকালে ফানুস থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন ঘরবাড়ি, গাছপালা বা খোলা জায়গায় ভয়াবহ ক্ষতি করতে পারে। গত ২০২৪ এর থার্টি ফার্স্ট নাইটে দেশের একাধিক স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
আলো দূষণ: আতসবাজির ঝলমলে আলো পাখি ও পতঙ্গের প্রাকৃতিক জীবনচক্র ব্যাহত করে। কৃত্রিম আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা প্রজনন, খাদ্য সংগ্রহ ও বাসস্থান তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থেকে বিচ্যুত হয়।
পরিবেশবান্ধব উদযাপনে বিকল্প পথ থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের সময় আমাদের উচিত পরিবেশের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া।
ইলেকট্রনিক আলোর প্রদর্শনী: পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী উদযাপনের জন্য এটি একটি চমৎকার বিকল্প।
গাছ লাগানোর উদ্যোগ: নতুন বছরকে উদযাপন করার জন্য গাছ লাগানো। যা আমাদের পরিবেশকে সুন্দর করবে।
সচেতনতা বৃদ্ধি: সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা।
সিয়াম পালন: ইসলাম ধর্মপ্রিয় ব্যাক্তিরা এইদিন সিয়াম(রোজা) পালন করতে পারেন।
আনন্দের জন্য প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করা নয়, বরং তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা জরুরি। থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন আমাদের জীবনে আনন্দ বয়ে আনে ঠিকই, তবে তা যেন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সচেতন হওয়া আমাদের দায়িত্ব। তাই, আসুন আমরা পরিবেশবান্ধব উপায়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাই।
চলুন নিজেকে বদলায়!