আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সা. বলেছেন,‘তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী বস্তু থেকে বেঁচে থাক’। এর মধ্যে অন্যতম হলো জাদু। জাদু মানবজীবনে বিপদ ডেকে আনে। ইসলাম জাদুকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু জাদু থেকে বাঁচার উপায়ও ইসলাম শিখিয়েছে। আসুন জেনে নেয়া যাক কীভাবে জাদুর কুপ্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি।
আমাদের নবী সা. নিজেও জাদুর শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাকে এই বিপদ থেকে মুক্ত করার উপায় শিখিয়েছিলেন। তিনি আমাদের জন্য যেসব দোয়া ও আমলের নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলো অনুসরণ করলে আমরা জাদুর কুপ্রভাব থেকে নিরাপদ থাকতে পারি।
জাদু টোনা থেকে বাঁচার দোয়া ও আমল
এক. জাদু দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে সকাল ও সন্ধ্যায় দোয়া করতে হবে। যা জাদু ছাড়াও অন্যান্য অনিষ্ট থেকে মুক্ত রাখে।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামায়ি ওয়াহুওয়াস সামিউল আলিম।’
দোয়াটি অর্থ হলো: আমি শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে পৃথিবী ও আকাশের কোনো জিনিস ক্ষতি সাধন করতে পারে না এবং তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
এই দোয়াটি সন্ধ্যায় তিনবার করে পাঠ করলে কোনো জিনিস ক্ষতি সাধন করতে পারে না। (তিরমিজি ৩৩৮৮)
দুই. সকাল সন্ধ্যার আরেকটি দোয়া
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিনশারি মা খালাকা।
দোয়াটি অর্থ হলো : আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর অসিলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
এই দোয়াটি সন্ধ্যার সময় পড়লে ওই রাতে কোনো সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদি কষ্ট দিতে পারে না। (মেশকাত ২৪২২, তিরমিজি ৩৪৩৭)
তিন. জাদু দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে জিবরাইল আলাইহিস সালাম রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়েছিলেন।
بِسْمِ الله أرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ، بِسمِ اللهِ أُرقِيكَ উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আরক্বিক মিন কুল্লি শাইয়িন য়ুযিক। ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন; আল্লাহু ইয়াশফিক। বিসমিল্লাহি আরক্বিক।
দোয়াটি অর্থ হলো: আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি। সকল কষ্টদায়ক বিষয় থেকে। প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চক্ষুর অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি। (মুসলিম ২১৮৬, তিরমিজি ৯৭২)
চার. সুরা ফালাক ও নাস এক্ষেত্রে অনেক বেশি উপকারী। সকাল-সন্ধ্যা সুরা ইখলাস,সুরা ফালাক ও সুরা নাস প্রতিটি তিন বার করে পড়ার পরামর্শ দেন আলেমগণ।
জাদু টোনা একটি মহাপাপ ও ইসলাম একে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য জাদু থেকে বাঁচার উপায়ও শিখিয়েছেন। উপরোক্ত দোয়া ও আমলগুলো নিয়মিত পড়লে ও আল্লাহর উপর ভরসা রাখলে আমরা জাদু টোনা কুপ্রভাব থেকে নিরাপদ থাকতে পারি।