আশরাফুল ইসলাম (শেকৃবি প্রতিনিধি):
খাবার পানির সংকট, ক্যান্টিন – ডাইনিং এ অপ্রতুল গ্যাস সরবরাহ আর নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা সংকটে জর্জরিত রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বিজয়-২৪ হল। হল প্রশাসনের ব্যার্থতা এবং গাফিলতিকে এর মূল কারণ বলে দায়ী করছে শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেকৃবির বিজয়-২৪ হলের বি-ব্লকের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপদ পানযোগ্য পানির অভাবে ভোগছে। একাধিকবার হল প্রশাসনকে জানালেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাছাড়া, শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয়কৃত ফিল্টারে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানেও হল প্রশাসনের গাফিলতি আছে বলে অভিযোগ করেছেন হলের শিক্ষার্থীরা ।
হলটি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার শুরু থেকেই তৈরি হওয়া নিরাপত্তা কর্মীর সংকট এখনও প্রায় ২ বছরেও হল প্রশাসন কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হল প্রশাসনের মাত্র চারজন স্থায়ী নিরাপত্তা কর্মী রয়েছে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলে নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। নিরাপত্তা কর্মী সংকটে একাধিকবার শিক্ষার্থীদের সাইকেল, মোবাইল, মানিব্যাগ চুরি হলেও হল প্রশাসন এর কোন দায়ভার নেয়নি । সর্বশেষ হলের মসজিদ থেকে ছয়টি ফ্যান চুরির ঘটনাও ঘটেছে ।
ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে ক্যান্টিন ম্যানেজার এর একাধিকবার আলেচনা হয়। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের সাথে বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হলে ক্যান্টিন ম্যানেজার হলে গ্যাসের সংকটকে দায়ী করেন। হল ডাইনিংয়ের বাবুর্চি থেকেও একই অভিযোগ পাওয়া যায়।
সরেজমিনে পযবেক্ষণ করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং গ্যাসের চুলার পাশাপাশি লাকড়ি এবং সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতেও দেখা যায়। গ্যাস সংকটের কারণে ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয় দিবসের ফিস্টের খাবার পরিবেশনে যেন ব্যাঘাত না ঘটে তাই ক্যান্টিন ম্যানেজারকে সকাল-দুপুর ক্যান্টিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় হল প্রশাসন। এতে খাবার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।
খাবার পানি সংকট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, ৮০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফখরুল হাসান বলেন, বি-ব্লকের পানি সংকটের ব্যাপারে একাধিকবার হল প্রশাসনকে অবহিত করলেও তারা ভ্রুক্ষেপ করেনি। এমনকি ফেসবুকে হল গ্রুপে পোস্ট করা হলেও তারা আমলে নেয়নি।
নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে, ৮০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান ইমন বলেন, অন্যান্য হলের তুলনায় বিজয়-২৪ হলে নিরাপত্তা কর্মী এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংখ্যা নেহাৎ-ই অপ্রতুল। শীঘ্রই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিরাপত্তাকর্মী বলেন, বিনা কারণে প্রোভোস্ট রুমে দুইজন কর্মচারীকে দায়িত্ব দিয়ে রাখা হইছে,সারাদিনে কোন কাজ নাই তাদের। অনেক শিক্ষক তাদের ব্যক্তিগত কাজে কর্মচারীদের কাজে লাগাচ্ছেন,খামারেও অনেক কর্মচারী আছে। শুধু কর্মচারী সংকট এই হলে? এতো বড় হলে এতো অল্প কর্মচারী দিয়ে চলে?
ডাইনিংয়ের বাবুর্চি শাহীন জানান, একাধিকবার গ্যাসের সমস্যার ব্যাপারে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ডাইনিং ম্যানেজারের জন্যও বলা হয়েছে। কিন্তু কোন সুফল পাওয়া যায়নি।
উক্ত অভিযোগ এবং সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক জাহেদুর রহমান জানান, পানির ফিল্টারের মেমব্রেন সপ্তাহে তিনদিন পরিষ্কার করতে হয়, পরিষ্কার না করায় দুই-একদিন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, কালকেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। গ্যাসের সমস্যা একটি জাতীয় সমস্যা। কখনও থাকে,কখনও থাকে না এটা নিয়ে কিছু করার নেই । নিরাপত্তা কর্মীর জন্য প্রশাসনের কাছে বলা হয়েছে,প্রক্রিয়া চলতেছে। হয়তো আগামী সপ্তাহের মধ্যে পেয়ে যেতে পারি।