নিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ঘুষ বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ, বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন বহুল আলোচিত ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম।তিনি ছিলেন শেখ রেহেনার ফান্ড ম্যানেজার।
দুদকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আলাউদ্দিন নাসিমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। অভিযোগ রয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের নির্দেশে জুলাই ও আগস্ট মাসে ফেনী, কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে চলে ছাত্রহত্যা।
জানাগেছে, ১৯৮৬ সালে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দেন আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা হওয়ার পর বাধ্য হয়ে চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রভাব বিস্তার করে সেই মামলা থেকে তিনি খালাস পান। ২৩ বছরের চাকরি জীবনে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে কামিয়েছেন হাজার হাজার কোটি টাকা।
এক সময়ে শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন নাসিম কানাডার নাগরিক হওয়ার পরও হাসিনা তাকে এমপি নির্বাচিত করেন। কানাডা আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছে তার ব্যবসা ও বাড়ি গাড়ি। তার মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে টাকা পাচার করতেন। নামে প্রটোকল অফিসার হলেও আলাউদ্দিন নাসিমের কাজ ছিল বিদেশে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সম্পদ রক্ষা করা।
ঢাকায় রয়েছে অসংখ্য ফ্লাট ও বিলাসবহুল গাড়ি। একজন সরকারি কর্মকর্তা থেকে বনে গেছেন বিলিয়নিয়ার।
ফেনীর পরশুরামে ৩০ একর জায়গায় ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম কলেজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, জোরপূর্বক ও ভয় দেখিয়ে নামমাত্র মূল্য পরিশোধ করে কলেজের জন্য কৃষিজমির জায়গা দখল করে নেয়া হয়।