‘৭২-এর সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনা এখনও প্রধানমন্ত্রী’—এমন মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-র মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন।
ফুয়াদ বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী বিতাড়িত হলেও শেখ হাসিনা এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণ্য হন। একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানও সেই সংবিধান অনুযায়ী জাতির জনক ও স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বহাল আছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দল কিছু নির্দিষ্ট ইস্যুকে পুঁজি করে যে রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলেছে, তা এখন ব্যর্থতার মুখে পড়েছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে একটি ‘ইন্ডাস্ট্রি’ তৈরি করেছিল, যা সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানের পর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। নতুন প্রজন্ম এ প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ধরনের চিন্তা নিয়ে সামনে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যে রাজনৈতিক ভিত্তি ইতোমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেটিকেই কেন্দ্র করে বিএনপি আবারও ৭২-এর সংবিধান নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে। তার মতে, বিএনপির আদর্শ ও শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে ওই সংবিধানের কোনো মিল নেই।
ফুয়াদ বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করেননি এবং রাষ্ট্রপতিও কোনো পদত্যাগপত্র পাননি বলে উল্লেখ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন—যদি পদত্যাগ না হয়ে থাকে, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী তিনি এখনও প্রধানমন্ত্রী কি না। এ অবস্থায় দেশে কি দুইজন প্রধানমন্ত্রী বা দুইটি সংসদের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে?
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, তার ক্ষমতায় আসার পেছনে সংবিধানের চেয়ে জুলাইয়ের ঘটনা ও শহীদদের আত্মত্যাগই প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, যারা ১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাদের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত। পঞ্চম সংশোধনী পুনর্বহালের বিষয়টি ওই সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শেষে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বৈধতা মূলত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে এসেছে, সংবিধান থেকে নয়।