অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, ‘…তখনই আমরা বুঝে গিয়েছি, ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘এই মুহূর্তে ঘরে-বাইরে, সংসদে এবং রাজপথে ঐকমত্য কমিশন নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। ঐকমত্য কমিশনের তেমন কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। আমাদের প্রথম মিটিংয়ে ডেকে তারা বোঝানোর চেষ্টা করেছে ভোটারদের বয়স ১৭ বছর করতে হবে, প্রার্থীদের বয়স ২৩ বছর করতে হবে এবং সংসদের মেয়াদ ৪ বছর করতে হবে। তখনই আমরা বুঝে গিয়েছি, ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।’
বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান হিসেবে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নেওয়া শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘আমরা সেই সময়ে বুঝে গেছি, ঐকমত্য কমিশনের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনকে প্রলম্বিত করা, নির্বাচনকে বিলম্বিত করা।’
তিনি বলেন, সেই সময়ে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেওয়া সালাহউদ্দিন সাহেব দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশকে নির্বাচনের পথে এগিয়ে নিয়েছেন।
নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, যতটুকু ঐকমত্য পোষণ করেছি, ততটুকু আমরা বাস্তবায়ন করব। ৮৪টা প্রশ্নের মধ্যে প্রায় ৬৮টি প্রশ্নে আমরা ঐকমত্য হয়েছি।’
সেলিম বলেন, ‘সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী এক ব্যক্তি হতে পারবেন না, আমরা এটার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছি। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও নেই… আমরা সেটাও মেনে নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আজকে যদি আমরা বলি যে, বিরোধী দলীয় নেতা এবং দলের প্রধান একজন হতে পারবেন না। যদি বলি, চিফ হুইপ এবং দলের নেতা একজন হতে পারবেন না। এটা কী শোভনীয় হবে? সেটা কী বাস্তবসম্মত হবে?’
এ সময় তিনি চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ‘পাঁয়তারা’ চলছে বলেও অভিযোগ করেন। তার দাবি, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ঐকমত্য কমিশন যখন আমাদের ব্যস্ত রেখেছে। একদিকে তারা চেষ্টা করেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার জন্য, আরেকদিকে চেষ্টা করেছে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। এটা অসম চুক্তি।’
এছাড়া নিজের নির্বাচনী এলাকা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘আমার জন্মভূমি লক্ষ্মীপুরের করপাড়া গ্রামে। যে গ্রাম থেকে ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। আমরা ডাইরেক্ট অ্যাকশনে গিয়েছি।
এই ডাইরেক্ট অ্যাকশনের প্রেক্ষিতে মহাত্মা গান্ধী আমাদের গ্রামে এসেছেন। তিনি দীর্ঘদিন আমাদের গ্রামে অবস্থান করেছেন। দীর্ঘদিন গ্রামে অবস্থান করে তিনি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। আমরা সেই গ্রামের উত্তরাধিকারী।’
তিনি বলেন, ‘যদিও বলা হয়, আমরা মহাত্মা গান্ধীর ছাগল খেয়ে ফেলেছি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’