ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দুইজনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন।
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই দুই নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে একটি আসন এনসিপির নিজস্ব কোটা থেকে এবং অন্যটি জোটের শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর ছাড় দেওয়া কোটা থেকে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।
জোটভিত্তিক বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি ও তাদের মিত্ররা পেয়েছে ৩৬টি আসন, জামায়াত ও তাদের জোট পেয়েছে ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে একটি আসন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে এনসিপি ৬টি আসনে জয়ী হওয়ায় একটি সংরক্ষিত নারী আসন নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি জোটের ভেতর সমঝোতার ভিত্তিতে আরও একটি অতিরিক্ত আসন দাবি করে এবং সেটি পাওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে দলটি।
এনসিপির সূত্রগুলো বলছে, ২০ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।
এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত জানান, প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব ও জোটের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইসহ প্রক্রিয়াগুলো এখনো চলমান রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুসরণ করেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ জানান, জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে এনসিপিকে একটি নির্ধারিত আসনের পাশাপাশি আরও একটি অতিরিক্ত সংরক্ষিত নারী আসন দেওয়া হবে। এছাড়া জাগপাকে একটি আসন এবং জুলাইয়ের সহিংসতায় নিহত এক শিশুর মাকেও মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।