রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরি করছে চীন

বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরি করছে চীন। দেশটির সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধির এই উদ্যোগ শুধু আকার নয়, বরং প্রযুক্তিগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবমেরিন তৈরিতে এখন যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে দেশটি। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি (প্ল্যান) দ্রুতগতিতে তাদের নৌবহর আধুনিকায়ন করছে। উন্নত জাহাজ […]

নিউজ ডেস্ক

১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৩৬

বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরি করছে চীন। দেশটির সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধির এই উদ্যোগ শুধু আকার নয়, বরং প্রযুক্তিগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবমেরিন তৈরিতে এখন যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে দেশটি।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি (প্ল্যান) দ্রুতগতিতে তাদের নৌবহর আধুনিকায়ন করছে। উন্নত জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সহায়তায় তারা নতুন যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন যুক্ত করছে বহরে। এই উন্নয়ন চীনের ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে চীনের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক সাবমেরিন ‘টাইপ–০৯৫’-এর একটি ঝলক দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি আগের টাইপ–০৯৩বি ও টাইপ–০৯৪ শ্রেণির সাবমেরিনের উন্নত সংস্করণ।

যদিও এর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, টর্পেডো বিন্যাস ও সোনার সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো সীমিত পরিসরে সামনে এসেছে, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পানির নিচে আধিপত্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

উপগ্রহচিত্র অনুযায়ী, এই সাবমেরিনটির আকার বড় প্রায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এবং এর অভ্যন্তরীণ ধারণক্ষমতা বেশি। এর স্থানচ্যুতি প্রায় ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টনের মধ্যে হতে পারে, যা এটিকে চীনের বহরের সবচেয়ে বড় সাবমেরিনে পরিণত করতে পারে।

যদিও সাবমেরিনটির গঠন সম্পর্কে খুব কমই জানা গেছে। প্রাপ্ত প্রতিবেদনগুলো থেকে বোঝা যায়, টাইপ ০৯৫ পিএলএএন পানির নিচের সক্ষমতা উন্নত করবে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এই সাবমেরিনে উন্নত হাইড্রোডাইনামিক নকশা, উন্নত শব্দনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অপেক্ষাকৃত নীরব প্রপালশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা শত্রুর শনাক্তকরণ এড়াতে সহায়ক হবে। এতে পাম্প-জেট প্রপেলার, শব্দ প্রতিরোধী আবরণ এবং উন্নত ইঞ্জিন কম্পন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি থাকতে পারে।

এতে সম্ভবত উন্নত অ্যাকোস্টিক প্রযুক্তি, যেমন- সোনারকে বোকা বানানো অ্যানিকোয়িক টাইলস এবং উন্নত ইঞ্জিন ভাইব্রেশন আইসোলেশন সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত থাকায় কিছু বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন, ০৯৫ বেইজিংয়ের কোলাহলপূর্ণ সাবমেরিনের সমস্যা কাটিয়ে উঠবে।

এছাড়া সাবমেরিনটিতে এক্স-আকৃতির রাডার ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পানির নিচে গতিশীলতা বাড়াবে। এতে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর থাকতে পারে, যা দীর্ঘ সময় পানির নিচে অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করবে।

অস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, এতে উল্লম্ব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা থাকতে পারে, যার মাধ্যমে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার সম্ভব। এই ব্যবস্থাটি বেইজিংয়ের নতুন ওয়াইজে-১৯ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র অথবা জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ওয়াইজে-২০ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম, কিন্তু বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত।

আরেকটি সম্ভাবনা হলো ট্রাই-প্যাক নামে পরিচিত একটি অস্ত্র ব্যবস্থা, যেখানে একটি টিউবের মধ্যে তিনটি উৎক্ষেপণ সেল থাকে। কেউ কেউ ধারণা করেছেন, টাইপ ০৯৫-এ আটটি টর্পেডো টিউব থাকবে, যার মধ্যে চারটি জাহাজের সামনের অংশের (বো) উভয় পাশে বসানো থাকবে, যা সম্ভবত একটি বড় সোনার সিস্টেমের জন্য জায়গা তৈরি করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাবমেরিন মূলত পানির নিচে যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করা হবে, বিশেষ করে প্রতিপক্ষের পারমাণবিক সাবমেরিন মোকাবিলায়। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিউলফ সাবমেরিনের মতোই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এটি জাহাজ বা স্থলভাগে আঘাত হানার সক্ষমতাও রাখতে পারে, তবে এটিকে প্রধানত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন হিসেবে ব্যবহার করা হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতিহাসগতভাবে চীনের সাবমেরিন বহর প্রযুক্তি ও সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তুলনায় পিছিয়ে ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রে উন্নয়ন ঘটিয়ে চীন দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে বেইজিং।

২০২২ সাল নাগাদ যেখানে মাত্র ছয়টি পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরি করেছিল চীন, সেখানে ২০২২ সালের পর থেকে প্রতি বছর প্রায় তিনটি করে পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরি করছে তারা। মাত্র দুই দশকের কিছু বেশি সময়ে পিএলএএনকে বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনীতে পরিণত করেছে দেশটি।

একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীন প্রায় ৭৯ হাজার টন ডিসপ্লেসমেন্টের সাবমেরিন তৈরি করেছে, যেখানে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছে প্রায় ৫৫ হাজার টন। অর্থাৎ পারমাণবিক সাবমেরিন উৎপাদনে এখন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে বেইজিং।

এই উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে চীন এখন নৌবাহিনীকে নিজস্ব সীমার বাইরে বিস্তৃত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে দেশটি। নতুন টাইপ–০৯৫ সাবমেরিনটি যুদ্ধজাহাজ বহর, বিমানবাহী রণতরী ও অন্যান্য আক্রমণাত্মক ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন বাহিনী এখনো প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে, তবুও উৎপাদনের এই ব্যবধান ভবিষ্যতে সামরিক ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে বোহাই শিপইয়ার্ডে নির্মাণাধীন এই সাবমেরিনটি আগামী এক বছরের মধ্যেই পানিতে নামানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: বিজিআর

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৭১০

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৭১০

আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আরেক মুসলিম দেশ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে তারা।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) চ্যানেল ১২-এর বরাতে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচিত সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকা সত্ত্বেও ইউএই ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ‍সূত্র জানিয়েছে, যদিও ইউএই কোনোভাবেই এই যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তবুও দেশটি ৮০০টি হামলা মোকাবিলা করেছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যারা নিজেদের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এর আগে শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ কামাল আল-হাইদারি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আক্রমণগুলো ইরানের সভ্যতা ও ধর্মীয় কর্তৃত্বকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। খবর শাফাক নিউজের।

আল-হাইদারি মুসলমানদের সতর্ক করেছেন, নিজেদের ভূমি, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ইহুদি ও আমেরিকানদের অহংকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে।

শিয়া ধর্মমতে, এই ধরনের জিহাদ সাধারণত প্রতিরক্ষা ভিত্তিক এবং আক্রমণাত্মক নয়। দ্বাদশ শিয়াদের মধ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা একজন মারজা’ আল-তাকলিদ বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে সীমাবদ্ধ।

এর আগে ২০১৪ সালে ইরাকের শীর্ষ শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ আলি আল-সিস্তানি আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান করেছিলেন, যা পরে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসে (পিএমই) পরিণত হয়।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৭১০

আন্তর্জাতিক

ভারতকে হরমুজ ছাড়ে তিনটি ট্যাংকার ফেরত চাইলো ইরান

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ […]

নিউজ ডেস্ক

১৬ মার্চ ২০২৬, ২৩:২৮

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাঝে আটকা পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেয়ার বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি তেলের ট্যাংকার ছেড়ে দিতে নয়াদিল্লির কাছে দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিলো, জাহাজগুলো তাদের পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছে এবং মাঝসমুদ্রে অবৈধভাবে পণ্য স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) সঙ্গে জড়িত ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, তেহরান বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও চেয়েছে। সূত্রটি জানায়, সোমবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিস্থ ইরান দূতাবাস এবং তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরান সম্প্রতি ভারতের দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি সোমবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে ফিরে এসেছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই প্রণালীর দুই পাশেই জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে কোনো আলোচনার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সোমবার বলেন, সাম্প্রতিক এই জাহাজ চলাচল দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক লেনদেনের প্রতিফলন। তবে কোনো কিছুর বিনিময়ে এই সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো বিনিময় হচ্ছে না।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে তেহরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলায় এখন পর্যন্ত তিন জন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।

রান্নার গ্যাসের সংকট মেটাতে ভারত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলো আগে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

মুম্বাই উপকূলে নোঙর করা ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলো

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামক তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী, বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্টগার্ডের করা একটি এফআইআর (যা রয়টার্সের হাতে এসেছে) অনুযায়ী, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল যা ‘আল জাফজিয়া’তে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ট্যাংকারগুলো আটকের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আটক জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

অন্যদিকে, যুগবিন্দর সিং ব্রার (যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহনে সহায়তাকারী জাহাজ বহরের পরিচালক হিসেবে অভিযুক্ত করে) জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি জাহাজেরই কনসালট্যান্ট। তিনি দাবি করেন জাহাজগুলো কোনো ভুল করেনি।

ফোনে রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমরা বিটুমিন পরিবহন করছিলাম এবং এতে অবৈধ কিছু নেই। আমার জাহাজগুলো ৪০ দিন ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং আমি লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি। তবে, ট্যাংকারগুলো নিয়ে কোনো আলোচনার খবর তার জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৭১০