শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

চুরি করে রাঘববোয়াল, সাঁজা হয় শুধু পিয়নটার, আবু সাইদ হত্যা মামলার রায় ও ন্যায়বিচারের অপূর্ণতা-বাপ্পি

দীর্ঘ ১ বছর ৮ মাস ২৪ দিনের প্রতীক্ষা শেষে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদের হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০২৪ সালের সেই উত্তাল জুলাইয়ে আবু সাইদ ছিলেন ছাত্র-জনতার জাগরণের প্রথম স্পুলিঙ্গ। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার স্বৈরাচারী শক্তি ভেবেছিল, লাশের স্তূপ সাজিয়ে ভয় ও আতঙ্কের চাদরে ছাত্রসমাজকে ঢেকে […]

চুরি করে রাঘববোয়াল, সাঁজা হয় শুধু পিয়নটার, আবু সাইদ হত্যা মামলার রায় ও ন্যায়বিচারের অপূর্ণতা-বাপ্পি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১৭

দীর্ঘ ১ বছর ৮ মাস ২৪ দিনের প্রতীক্ষা শেষে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদের হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০২৪ সালের সেই উত্তাল জুলাইয়ে আবু সাইদ ছিলেন ছাত্র-জনতার জাগরণের প্রথম স্পুলিঙ্গ। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার স্বৈরাচারী শক্তি ভেবেছিল, লাশের স্তূপ সাজিয়ে ভয় ও আতঙ্কের চাদরে ছাত্রসমাজকে ঢেকে দেওয়া যাবে। তাই তো আন্দোলন দমাতে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো এক তরুণকে স্তব্ধ করে দিলো। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করেছে, আবু সাইদের সেই রক্তরঞ্জিত শার্টই শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারের পতনের মানচিত্রে পরিণত হয়েছিল।

​তবে রায়ের পর আজ বড় প্রশ্ন এই রায় কি ন্যায়বিচারের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছে?

​দণ্ডের ব্যবচ্ছেদ ও গণঅসন্তোষ:

​প্রকাশিত রায়ে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন ও ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও জনমনে অস্বস্তি কাটছে না। বিশেষ করে আবু সাইদকে লাঠিচার্জ ও নির্মম শারীরিক নির্যাতন করা ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়ার ১০ বছরের সাজা নিয়ে খোদ শহীদের পরিবার ও সহপাঠীরা ক্ষুব্ধ। গুরু অপরাধে ছাত্রলীগ নেতার এমন লঘুদণ্ড জনমনে যথেষ্ট প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। যখন একজন ঘাতকের নির্মমতা স্পষ্ট, তখন এমন লঘু দণ্ড বিচারিক প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। শহীদের পিতা মকবুল হোসেনের কান্নাসিক্ত কণ্ঠে যখন ‘অসন্তোষ’ ঝরে পড়ে, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে, এই রায় আইনি প্রক্রিয়া পূর্ণ করলেও ‘ইনসাফ’ বা সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হোঁচট খেয়েছে।

​হুকুমদাতা বনাম আজ্ঞাবহ সিস্টেমের পুরনো ক্ষত:

​আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এটি ছিল একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’। প্রশ্ন ওঠে এই পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড কারা? মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমির হোসেন এবং সুজন চন্দ্র রায় যথাক্রমে এএসআই ও কনস্টেবল পদমর্যাদার। পুলিশি কাঠামোতে ১১ বা ১২তম গ্রেডের এএসআই এবং ১৭তম গ্রেডের কনস্টেবলের পক্ষে কি নিজ সিদ্ধান্তে এমন রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা সম্ভব? তারা কি এমন রাজনৈতিক ও কৌশলগত খুনের মাস্টারমাইন্ড হতে পারে?

​সাবেক এএসআই আমির হোসেনের শেষ উক্তিটি এ দেশের বিচারিক ইতিহাসের জন্য এক ট্র্যাজিক কৌতুক:

​“আমি শুধু সরকারের হুকুম পালন করেছি… আমি সরকারের হুকুমের গোলাম। জয় বাংলা।”

​তার এই স্বীকারোক্তিই বলে দেয়, অপরাধের শেকড় কত গভীরে। এই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটিই প্রমাণ করে, হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা কোন পর্যায় থেকে এসেছিল। এটাই এই মামলার রাজনৈতিক ও সামাজিক সত্য। যখন এএসপি, এসপি বা কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তারা নির্দেশ দেন, তখন মাঠপর্যায়ের সদস্যদের তা অমান্য করার সুযোগ সীমিত থাকে। অথচ রায়ে বড় কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি বা লঘু সাজার বিপরীতে ছোটদের বলির পাঁঠা করার প্রবণতা স্পষ্ট। বাস্তবতা হচ্ছে, বড়রা বাঁচে আর ছোটরা পুড়ে। আর এটাই আমাদের সিস্টেমের কঠোর সত্য।

​এই রায়ের শিক্ষা ও আমাদের করণীয়:

​১. হুকুমদাতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: ন্যায়বিচারের প্রধান শর্ত হলো অপরাধের উৎস খুঁজে বের করা। যারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে ‘শুট টু কিল’ বা ‘বুক লক্ষ্য করে গুলি’ করার মৌখিক বা লিখিত নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাদের বিচারের বাইরে রেখে বিচারিক প্রক্রিয়া পূর্ণ হতে পারে না। রাষ্ট্রপক্ষকে অবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করে এই পরিকল্পনার মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে হবে।

​২. পুলিশ বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার: ‘হুকুমের গোলাম’ হওয়ার সংস্কৃতি থেকে পুলিশ বাহিনীকে বের করে আনতে হবে। কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অবৈধ বা অমানবিক নির্দেশ পালনে অস্বীকৃতি জানানোর আইনি সুরক্ষা কনস্টেবল থেকে শুরু করে নিচের সারির সদস্যদের দিতে হবে। অন্যথায়, ক্ষমতার পালাবদলে বারবার পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে।

​৩. ছাত্রলীগ ও রাজনৈতিক ক্যাডারদের বিচার: সহিংসতায় লিপ্ত রাজনৈতিক ক্যাডারদের শাস্তির ক্ষেত্রে কোনো নমনীয়তা দেখানো বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী। পোমেল বড়ুয়াসহ মাঠপর্যায়ের অন্যান্য নিপীড়কদের সাজার মাত্রা অপরাধের ভয়াবহতা অনুযায়ী পুনঃনির্ধারণ করা জরুরি।

পরিশেষে, ​শহীদ আবু সাইদ কেবল একটি নাম নয়, তিনি একটি নব্য বাংলাদেশের ইশতেহার। শহীদ আবু সাইদের রক্তরঞ্জিত রাজপথ আজন্ম সাক্ষী হয়ে থাকবে এক অসম যুদ্ধের। তার রক্তে কেনা এই স্বাধীনতায় যদি ‘অর্ধেক সত্য’ বা ‘অর্ধেক বিচার’ প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা হবে শহীদদের আত্মার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। ন্যায়বিচার যেন কেবল নিম্নপদের কর্মচারীদের ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে ওপরতলার অপরাধীদের আড়াল করার হাতিয়ার না হয়। আবু সাইদের পরিবার ও দেশবাসী এমন এক বিচার দেখতে চায়, যেখানে অপরাধী যে স্তরেরই হোক—তার দণ্ড হবে প্রশ্নাতীত এবং সমানুপাতিক। ইতিহাসের পাতায় এই রায় যেন কেবল একটি নথিপত্র হয়ে না থাকে, বরং আগামীর বাংলাদেশের জন্য এক নির্ভীক ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার উদাহরণ হয়ে ওঠে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।