মোঃআতেফ ভূঁইয়া , গাজীপুর সদর প্রতিনিধি:
গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে কৃষকদল নেতা ও নির্মাণ ঠিকাদার মো. ওয়াশিমের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে এবং অপর পা ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতা এস. এম. মোমিনুর রহমান মমিনকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গাজীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর স্ত্রী মুন্নী আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ ঘটনার বর্ণনা দেন। এ সময় গুরুতর আহত ওয়াশিমকে একটি গাড়িতে করে প্রেসক্লাবের সামনে রাখা হয়।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ছাত্রদল নেতা মমিনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, হামলা ও মাদক কারবারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মমিনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ওয়াশিমের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
হামলায় গুরুতর আহত ওয়াশিমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে বাধ্য হন। এছাড়া বাম পা ভেঙে যাওয়ায় প্লাস্টার করা হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের কারণে তিনি প্রায় অচল হয়ে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়াশিমের মা রহিমা বলেন,
“আমার ছেলে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমরা সর্বস্ব হারিয়েছি। জমি-জমা বিক্রি করে এখন অন্যের বাসায় থাকতে হচ্ছে।”
ভুক্তভোগীর স্ত্রী মুন্নী আক্তার অভিযোগ করেন, ঘটনার পর একাধিকবার থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে বুধবার (৮ এপ্রিল) গাজীপুর আদালতে আবেদন করলে আদালত গাছা থানাকে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আসামিরা মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রধান আসামিকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও তোলা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা এস. এম. মোমিনুর রহমান মমিন। তিনি বলেন,
“ওয়াশিম একজন মাদক কারবারি। মাদক ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষে সে আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে।”
অন্যদিকে ওয়াশিম দাবি করেন, তিনি নির্মাণসাইটে ইট-বালুসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ করতেন। কাজ বেশি পাওয়ার কারণে তার কাছ থেকে লাভের অংশ এবং এককালীন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে ডেকে নিয়ে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়।