বিএনপি নিজেদের ঘোষিত ইশতেহার ও ৩১ দফার অঙ্গীকার থেকে সরে গিয়ে আরেকটি আওয়ামী লীগ হওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্থানীয় সরকার প্রশাসনসংক্রান্ত একটি বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
হান্নান মাসউদ বলেন, বিএনপির ৩১ দফার ২০ নম্বর দফায় উল্লেখ ছিল- মৃত্যু বা দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া ছাড়া কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিকে অপসারণ করা যাবে না। কিন্তু বর্তমান বিলের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা হচ্ছে। তার ভাষায়, এটি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ‘পিঠে ছুরিকাঘাতের’ শামিল।
তিনি বিলটিকে গণতন্ত্রবিরোধী আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ ও ‘জনস্বার্থ’- এ ধরনের অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে। তিনি জানতে চান, এসব শব্দের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা কী এবং কোন পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করা হবে।
এনসিপির এই সংসদ সদস্য আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দলীয় স্বার্থে ব্যর্থতা বা অবৈধ সুবিধা না দিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অপসারণে এই আইন ব্যবহার করা হতে পারে। একই সঙ্গে ‘উপযুক্ত ব্যক্তি’ নিয়োগের বিধান নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে বসানোর সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সাম্প্রতিক বগুড়া ও শেরপুর উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ করেন। তার দাবি, বিরোধীদলীয় এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের দিয়ে ভোট দেওয়ানোর মতো ঘটনা ঘটছে।
অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে হান্নান মাসউদ বলেন, ১৯৯৪ সালের মাগুরা নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপ জনগণের প্রতিরোধের মুখে টেকেনি। তিনি বলেন, ভোট কারচুপির রাজনীতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘বিএনপি যতই চেষ্টা করুক, আওয়ামী লীগ হতে পারবে না।’
এছাড়া স্থানীয় সরকার কাঠামোকে দুর্বল করার উদ্যোগ থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করতে বিএনপিকে আহ্বান জানান তিনি।