মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জে হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রোববার সকাল ৯টা থেকে জেলার একটি পৌরসভা ও তিন উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মোট ৪৭টি কেন্দ্রে একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে জেলায় ১০ হাজার ৯৫০ ভায়াল হাম টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। এই টিকার মাধ্যমে আগামী তিন সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও টিকা সরবরাহ করা হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, লৌহজং উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ১৩টি কেন্দ্রে, শ্রীনগর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১৮টি কেন্দ্রে এবং সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১৬টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি পৌরসভা এলাকাতেও নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে সারাবছরই এই সেবা চালু থাকবে। অস্থায়ী কেন্দ্রগুলো চাহিদা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের সংক্রমণ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার এ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। জটিল ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে নির্দিষ্ট বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়ার জন্য। তারা বলেন, টিকাদান সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এটি শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ কর্মসূচি সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জ জেলায় হামের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।