ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের দায়ে একটি মার্কিন ‘এমকিউ-১’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির বিশেষায়িত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইসফাহান প্রদেশের আকাশে এই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয় বলে শনিবার আইআরজিসি’র এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার খবরের পর ড্রোনের এই ঘটনাকে চলমান সংঘাতের নতুন ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, ড্রোন ভূপাতিত করার খবরের মাঝেই ইরানের রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং আইআরজিসি’র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। আইডিএফ জানায়, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই এই সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আইআরজিসি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে তারা এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্তত ১৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইসফাহানে ধ্বংস হওয়া ড্রোনটি মার্কিন এমকিউ-৯ মডেলের বলেও কোনো কোনো সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া বুশেহর ও খোমেইন প্রদেশের আকাশেও বেশ কিছু ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান।
শনিবার দিনের আলোতে চালানো এই হামলায় তেহরানের পার্শ্ববর্তী গবেষণা কেন্দ্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। তবে ইরান সরকার এই হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করা মার্কিন ও ইসরায়েলি ড্রোনগুলো ক্রমাগত ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে, যার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার চরমপত্র দেওয়ার পর এই পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং অন্যদিকে ইরানের একের পর এক ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি— সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন এক ভয়ংকর যুদ্ধের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে ড্রোন ভূপাতিত করার তথ্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা না গেলেও, উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান এই অঞ্চলকে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?