সাইফুল ইসলাম সাগর, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্যবন্দর মহিপুর ও আলিপুরে জেলেদের মাঝে ন্যায্য মূল্যে ডিজেল বিতরণ করা হয়েছে। তবে জেলেদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় অনেক ট্রলার মালিক এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যা বিকেলে মহিপুর বিএফডিসি মার্কেটে এ জ্বালানি তেল বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক।
এ সময় ২০ জন জেলের মাঝে ১৫ হাজার লিটার এবং আলিপুরে ১২ হাজার লিটারসহ মোট ২৭ হাজার লিটার ডিজেল বিতরণ করা হয়। প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০১ টাকা ৭৪ পয়সা।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক জানান, ট্রলারের ইঞ্জিনের আকার অনুযায়ী হিসাব করে একজন জেলেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার লিটার এবং সর্বনিম্ন ৪০০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ ফজলু গাজী, মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রাজু আহমেদ রাজা, সাধারণ সম্পাদক সুমন দাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
তবে জেলেরা জানান, একটি বড় ট্রলার সমুদ্রে একটি পূর্ণ ট্রিপ সম্পন্ন করতে প্রায় আড়াই হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। সেখানে সর্বোচ্চ ১ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়ায় ট্রলার পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তারা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেন পূর্ণ ট্রিপের জন্য প্রয়োজনীয় আড়াই হাজার লিটার ডিজেল ন্যায্য মূল্যে সরবরাহ করা হয়।
অন্যদিকে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঘাটে শত শত ট্রলার থাকলেও অল্পসংখ্যক ট্রলার মালিক এই সুবিধা পেয়েছেন এবং সরবরাহকৃত ডিজেলের পরিমাণও চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
এছাড়া অনেক ট্রলার মালিক জানান, পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় তাদের ট্রলার ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত ঘাটে নোঙর করে রাখতে হচ্ছে। এতে জেলেরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি তাদের পরিবারও পড়ছে আর্থিক সংকট ও খাদ্যাভাবের মুখে।
এ অবস্থায় জেলেরা দ্রুত ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধি করে সংকট নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।