জ্বালানি তেল নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে কালোবাজারি ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ধাওড়া গ্রামে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তেল সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। প্রয়োজনবোধে আমরা সেই শাস্তি প্রয়োগ করব এবং যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি শ্রেণি অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য একই মোটরসাইকেল দিয়ে একদিনে একাধিক স্থান থেকে তেল নিচ্ছে। পরে সেই তেল বাসায় এনে বোতল বা ড্রামে মজুত করছেন এবং আবার তেল নিতে আসছেন। আমরা এতদিন নমনীয় ছিলাম।
তবে প্রয়োজন হলে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারা অনুযায়ী কালোবাজারি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে বলছি, আপনারা কঠোর হোন। আমরা আপনাদের সাথে থাকব, আমার সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাশে থাকবে। যদি বিএনপির কোনো নেতাকর্মী কালোবাজারি বা মজুতদারির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাকে সবার আগে গ্রেপ্তার করুন। আর যদি কেউ তার পক্ষে তদবির করতে আসে, তাকেও গ্রেপ্তার করুন। আমরা যে কোনো মূল্যে কালোবাজারি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় ভর্তুকি দিচ্ছে। সেই ভর্তুকির টাকা কয়েকজন কালোবাজারি, গুটিকয়েক প্রভাবশালী বা ষড়যন্ত্রকারী দেশবিরোধীর পকেটে যাবে—এটা আমরা হতে দেব না।
আমাদের বিশেষ অতিথি ফরাদ হোসেন আজাদের এলাকায় গতকাল প্রশাসনের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্রতিটি পেট্রোল পাম্প পাহারা দিয়েছেন। যারা দুই-তিনবার তেল নিতে এসেছেন, তাদের হাতেনাতে ধরা হয়েছে। এরপর লাইনে সমস্যা আর হচ্ছে না। আমরা সেই ফর্মুলা অন্য জায়গায়ও প্রয়োগ করার চেষ্টা করব।’