পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ডিভিএম পুনর্বহালের দাবীতে গত ৪ মার্চ সকল প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে। পরবর্তীতে গত ৩ এপ্রিল বরিশাল ক্যাম্পাসে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ করে শিক্ষার্থীরা।
একাডেমিক ভবন তালাবদ্ধ থাকায়, ৪ এপ্রিল (শনিবার) ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা সকাল ৯.৩০টায় ক্যাম্পাসের মাঠে কম্বাইন্ড ডিগ্রির একটি ব্যাচের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেন। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত শিক্ষকদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। সেখানে উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে একজন দলীয় পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
এসময় অধ্যাপক রুহুল আমিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আগের রুটিন সিডিউল অনুসারে এখানে পরীক্ষা হচ্ছে। তোমরা একাডেমিক ভবনে তালা দিয়েছো, তোমাদের সাথে আমাদের কোন কথা নেই। এখন দেশে দলীয় সরকার বিদ্যমান, আমরা এখানে যারা আছি সবাই দলীয় শিক্ষক। তোমরা সংঘবদ্ধ হয়ে যা ইচ্ছা তাই করবে এটা হতে পারে না।”
এখানে উল্লেখ্য যে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারী পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা ডিভিএম পুনর্বহালের দাবীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেন।
সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসেন ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা। যেখানে যথাযথ সমাধান না পাওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় এবং গত ৩ই এপ্রিল (শুক্রবার) রাতে শিক্ষার্থীরা ওল্ড একাডেমিক ভবন ও প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ করে৷
এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীর মধ্যে ডিভিএম লেভেল-৪, সেমিস্টারে-২ এর শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ডিভিএম ডিগ্রি পুনর্বহালের দাবীতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় অথোরিটি ও ডিভিএম শিক্ষকদের বারবার অবিহিত করার পরেও এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো আশ্বাস পাইনি। তাই গতকাল আমরা একাডেমিক ভবন ও প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ করতে বাধ্য হই এবং আজ অবস্থান কর্মসূচি পালন করি “
তিনি আরো বলেন, “অবস্থান কর্মসূচির মাঝে আমরা লক্ষ্য করি, কম্বাইন্ড ডিগ্রির একটি ব্যাচের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ক্যাম্পাসের মাঠে নিচ্ছেন শিক্ষকরা। সেখানে কোনো গার্ড বা আনুষ্ঠানিক তদারকি ছাড়াই শিক্ষার্থীরা যে যার মতো পরীক্ষা দিচ্ছে এবং নামমাত্র ভাইভা নিয়ে সেমিস্টার ফাইনাল সম্পন্ন করা হচ্ছে। আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা দলীয় পরিচয়ে আমাদের সাথে ক্ষুব্ধ ব্যবহার করেন।”
হুমকির অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজি এন্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক রুহুল আমিনকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “এটা কোনো হুমকি ছিল না। এটা ছেলেরা আসলো আর বিভিন্ন সময় তাদের সাথে বিভিন্ন ধরনের কথা হয়। তাদেরকে থামানোর উদ্দেশ্যে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।