জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, আমরা বলতে চাই, সংসদে আপনাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতেই পারে। তবে বাংলাদেশের জনগণ ৭০ শতাংশ ভোট দিয়ে রাজপথে আছে। এ জনগণকে কোনভাবে অমান্য করে আপনারা টিকে থাকতে পারবেন না। আপনাদের পতন নয়, সুন্দর পদক্ষেপের অপেক্ষা করছি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই সনদ কার্যকর এবং গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার’ এর দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এই সমাবেশের আয়োজন করে।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা তো বুঝি আপনারা (বিএনপি) সংস্কার চান না, গণভোট চান না। তার পেছনের কারণ হলো আপনারা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতাকে এবং সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক ব্যক্তির করায়ত্তে রাখতে চান।
আপনারা মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন চান না বিধায় গণভোট চান না।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করা বৈধ, আর জনগণের ভোটে সংস্কার হবে সেটাকে বলে অবৈধ এমন দ্বিচারিতা বাংলাদেশের মানুষ সহ্য করবে না।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা সংস্কার পরিষদের কথা বলছি, এটা নতুন কথা নয়। ঐক্যমত্য কমিশনে ৩০টির ওপরে রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে এবং সংবিধানের টেকসই পরিবর্তনের জন্য, সংস্কারকে টেকসই করার জন্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য আমরা সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিলাম।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় ভোটের আগ পর্যন্ত তারা (বিএনপি) ফরমালি গণভোটের বিপক্ষে বলেনি। ভোটের পরে টু থার্ড মেজরিটি পাওয়ার কারণে, তারা জনগণের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সাহস করছে।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, জনগণ গণভোটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোর যে পরিবর্তন চেয়েছে,
আজকের দুই তৃতীয়াংশের ক্ষমতার জোরে তারা (বিএনপি) সেটাকে অমান্য করার পাঁয়তারা করছে। তারা সংবিধানের কথা বলছে, দেশ পরিচালনার জন্য আমরাও সংবিধানের কথা বলি। তবে, সেই সংবিধান ৭২ এর মুজিববাদী সংবিধান হতে পারে না।
দেশ পরিচালনার জন্য সংবিধান হতে হবে। জনগণের সংবিধান। আর সেই সংবিধানে জনগণের কথা থাকতে হবে, তার বাইরে আমরা কিছু হতে দেবো না।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এটিএম আজহারুল ইসলাম।
এ সময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ প্রমুখ।