সাইফুল ইসলাম, কলাপাড়া(পটুয়াখালী):
পটুয়াখালীর মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের বিপিনপুর গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে।
মহিপুর গ্রামীণ ব্যাংকের পূর্ব পাশে অবস্থিত খালটির একাংশ ভরাট করে দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিছু অসাধু ভূমিদস্যু এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে। এতে খালটির পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে এটি মৃতপ্রায় অবস্থায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিপিনপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ বাদশা হাওলাদার (পিতা: মৃত আদম আলী হাওলাদার) এবং মোঃ সাদেক ফকির (পিতা: মৃত সোলেমান ফকির)-এর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি খাল দখলের এ কার্যক্রমে জড়িত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা খাল দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এই খালটি।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে ভরাট হওয়ায় খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে বর্ষা শেষে কয়েক মাসের মধ্যেই খালটি শুকিয়ে যায় এবং এলাকায় পানি সেচ সংকট দেখা দেয়। এতে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম হাওলাদার বলেন, বিপিনপুর এলাকার প্রায় ২ হাজার পরিবারের জন্য খালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালটি পুনঃখনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সচল করা গেলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে এবং কৃষিকাজেও সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও বলেন, খালটি পুনঃখনন করা হলে কৃষকদের যান্ত্রিক সেচের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খালটি উদ্ধার এবং দ্রুত পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।