খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা বিভাগে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক এবং দক্ষিণাঞ্চলের কেন্দ্রীয় সংগঠক ওয়াহিদুজ্জামানের একের পর এক অদূরদর্শী ও অ-সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কারণে সংগঠনটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সাম্প্রতিক এক ঘটনায় এই ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। খুলনা এনসিপির একটি কার্যালয় রাতারাতি বিএনপির একটি সহযোগী সংগঠনের অফিসে রূপান্তরিত হয়েছে। এনসিপির খুলনা জেলা ও মহানগরের ওই কার্যালয় বর্তমানে “আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ” নামে ব্যবহৃত হচ্ছে। কার্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ও দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’র ব্যানার টানানো হয়েছে।
সংগঠনের একাধিক সূত্র জানায়, খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি ইতোমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছে; কিছু জেলায় কাঠামো প্রায় ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সংগঠনের উন্নয়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। বরং তার এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কিছু সিদ্ধান্ত সংগঠনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়েছে।
এছাড়া ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকদের উপেক্ষা করে সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করছেন নেতাকর্মীরা। এসব কমিটির কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যা স্থানীয় গণমাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছে।
সবশেষে এস এম আরিফুর রহমান মিঠুকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এনসিপির ডিড করা কার্যালয় হলেও সেটি এখন “আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ”-এর মহানগর কার্যালয় হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতারা। তাদের দাবি, সংগঠনের আদর্শ ও কাঠামো রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে খুলনা বিভাগে এনসিপির অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা মহানগরের এক সংগঠক বলেন, “সাংগঠনিকভাবে এনসিপি খুলনা ধীরে ধীরে অকার্যকর হয়ে পড়ছে। এর দায় খুলনার কেন্দ্রীয় দুই নেতার ওপরই বর্তায়। এনসিপির ডিডকৃত অফিস এখন বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত হচ্ছে। পক্ষপাতমূলক লোকজন নিয়ে এসে তারা সংগঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”