কুবি প্রতিনিধি :
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত করা, পদোন্নতি বোর্ড বন্ধ রাখা এবং শর্ত সাপেক্ষে সিন্ডিকেট সভা আয়োজন করতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের একাংশের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে উপাচার্য দপ্তরে গিয়ে এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী।
দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করীম, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন উপাচার্য দপ্তরে গিয়ে পদোন্নতি বোর্ড বন্ধ রাখতে এবং তাদের দেওয়া শর্ত মেনে সিন্ডিকেট সভা আয়োজন করতে বলেন। এসময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে হুমকি দেন বলেও জানা যায়।
এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিনজন শিক্ষক উপাচার্য দপ্তরে এসে সব ধরনের সিন্ডিকেট সভা ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বোর্ড স্থগিত রাখার কথা বলেন। পাশাপাশি, যদি সিন্ডিকেট সভা আয়োজন করা হয়, তাহলে সাবেক রেজিস্ট্রার মুজিবুর রহমান মজুমদার ও কর্মকর্তা জাকির হোসেনের ফাইল উত্থাপন না করার শর্ত দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে তারা এসব কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এর আগেও সিন্ডিকেট সভার তিনবার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তাদের বাধার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।’
অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, ‘আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি।’
শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করবো না। আমরা এমন কোনো বক্তব্য দিইনি। যারা এ ধরনের অভিযোগ দিয়েছেন তাদেরকে নিয়ে আসো সামনাসামনি কথা বলব।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘তিনজন শিক্ষক (উপরে উল্লিখিত) আমার কাছে এসে পদোন্নতি বোর্ড না করার কথা বলেছেন। এছাড়া সিন্ডিকেট সভা হলে নির্দিষ্ট দুজনের ফাইল উত্থাপন না করার শর্ত দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে আমরা চাইলেও সিন্ডিকেট সভা আয়োজন করতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। দ্রুত একটি সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের মাধ্যমে সেগুলো নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।’
প্রসঙ্গত, সাবেক রেজিস্ট্রার মুজিবুর রহমান মজুমদার আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে বর্তমানে বাধ্যতামূলক ছুটিতে রয়েছেন। এছাড়া কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। উপরিউক্ত দুইজনের সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সিন্ডিকেটে উত্থাপন করে শাস্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।