মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জ জেলায় হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তিনজন হামের রোগী ভর্তি রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, জেলায় মোট ৪৭ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১১ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এপিডেমিওলজিক্যালি (ইপি-লিংকড) আরও ১৫ জনকে পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বর্তমানে জেনারেল হাসপাতালে তিনজন রোগী চিকিৎসাধীন থাকলেও বাকি রোগীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহাম্মদ কবীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার জানান, হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালে হামের রোগীদের জন্য আলাদা কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পাঁচটি বিশেষ বেড সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং কয়েকদিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া—এগুলো হামের প্রধান লক্ষণ।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে হামের জটিলতা বেশি ভয়াবহ হতে পারে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহও দেখা দিতে পারে। এছাড়া শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতির কারণে দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের সময়মতো টিকা প্রদান, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।