নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার আটপাড়ায় মগড়া নদী থেকে সুমন খান ও তৌসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠেছে। শনিবার বিকালে উপজেলার নারায়ণপুর বুড়ির ঘাট এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বালু বোঝাই একটি বাল্কহেড নৌক জব্দ করে। তখন ঘটনাস্থল থেকে ৫জনকে আটক করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা শারমিন বালু মহাল আইনে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আদালত বরাবর প্রতিবেদন প্রদান করেন। রবিবার পুলিশ আসামীদের কে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেন। তবে মূল অভিযুক্তরা ধরা পড়েনি বলে জানায় স্থানীয়রা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন- সুমন খান আটপাড়া উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক ও গাবরগাছ গ্রামের মো. সিদ্দিক খানের ছেলে। আর তৌসিবুল ইসলাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আটপাড়া বিএনপির প্রয়াত নেতা মাজু মিয়ার ছেলে।
আটককৃতরা হলেন-আউয়াল মিয়া (২২) আজিজুল হক (২৫) কাজল মিয়া (৩৩) ফয়েজ উদ্দিন (৪৯) ও লাক মিয়া (২৮) তারা সবাই বাল্কহেড নৌকার মাঝি ও পাশের উপজেলা বাইশদার গ্রামের বাসিন্দা।
ভ্রাম্যমান আদালত ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই সুমন খান মগড়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। এ নিয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে অভিহিত করেন।
অদৃশ্য কারণে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন রদ বদল হয়। এরপর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। নির্বাচনে আগমুহূর্ত থেকে তারা প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন বন্ধ করে রাতের আঁধারে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চালিয়ে যান।
শনিবার বিকেলে বালু উত্তোলনের সংবাদ পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ভূমি তানজিনা শারমিন বালু বোঝাই একটি বাল্কহেড নৌকা জব্দ করেন।
তখন ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর প্রতিবেদনের মাধ্যমে রবিবার তাদেরকে নেত্রকোনা আদালতে প্রেরণ করেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালত সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আটপাড়ার স্থানীয় অনেকেই বলেন- ৫আগষ্টের পর থেকে সুমন খান মগড়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। কিছুদিন ধরে তৌসিবুল ইসলাম তার সাথে যুক্ত হয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন।
ফলে নদীর বিভিন্ন জায়গায় মৃত্যুর কূপ তৈরি হয়েছে। কেউ কিছু বলতে গেলে হুমকি ধমকির স্বীকার হয়েছে। তারা দাবি করছেন বালু লুটের সাথে প্রকৃতপক্ষে যারা জড়িত তাদের কে আইনের আওতায় আনা হলে বন্ধ হবে।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তৌসিবুল ইসলাম জানান, দেওগাও থেকে নারায়ণপুর সড়কের ঠিকাদার হিসেবে নির্মাণ কাজ করছি। এ সড়কের জন্য ঠাকুরাকোনার আলামিন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে বালু ক্রয় করছি।
তিনি আমাকে ওই প্রজেক্টে বালু সরবরাহ করছেন। আজকে জেনেছি সুমন খান তাদের সাথে বালুর ব্যবসা করেন। তারা কোথায় থেকে বালু এনে দিচ্ছেন এসব বিষয়ে আমি জানিনা। তবে তারা আমাকে ভৈরব থেকে বালু এনে দেওয়ার কথা ছিল।
অপর অভিযুক্ত সুমন খানের নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
ভ্রাম্যমান আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা শারমিন বলেন, মগড়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রির খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় আদেশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে নিয়ে আসা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত তাদের বিরুদ্ধে বালু মহল আইনে প্রতিবেদন দিয়ে আদালতে পাঠানোর জন্য পুলিশ কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুবায়দুল আলম জানান, উপজেলার নারায়নপুর মগড়া নদী বুড়ির ঘাট এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার সময় ভ্রাম্যমান আদালত বালু বোঝা একটি বাল্কহেড নৌকা জব্দ করে।
ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের প্রতিবেদন দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে আদালত চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা গ্রহণ করতে পারবে অথবা থানা মামলা রুজু করার নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।