ফরিদপুরে ‘তেল নাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা দুই পাম্পে অভিযান চালিয়ে ৫৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল পেয়েছে প্রশাসন। এ অপরাধে এক প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের সদর উপজেলার কানাইপুর বাজারে হোসেন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রশাসন ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৬ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন এবং ১৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেলের মজুত পায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত হোসেন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সাব্বির চৌধুরীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এ সময় প্রশাসন পাম্প চালু করে বাস, ট্রাক, কৃষক, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করে। পাম্প কর্তৃপক্ষ তখন ভুল হয়েছে বলে ক্ষমা প্রার্থনা করে।
এরপর একই এলাকার রয়েল ফিলিং স্টেশনে ভোক্তাদের শুধু ডিজেল সরবরাহ করে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগ পাওয়া যায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, পাম্পটিতে ৩ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন এবং ১৯ হাজার লিটার ডিজেল মজুত রয়েছে।
এ সময় পাম্পের মালিক ও ম্যানেজার মেশিনে সমস্যার কথা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ চালু করে ভোক্তাদের জন্য জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করে প্রশাসন।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তী এবং সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব রহমান আকাশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ অভিযান চলমান থাকবে।”