ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে, আর এই প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথি আন্দোলন যদি পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি অবরোধের চেষ্টা করে, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্টন কলেজের প্রেসিডেন্ট এলিজাবেথ কেন্ডাল সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কড়াকড়ি আরোপ হলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে যেতে পারে। কারণ, লোহিত সাগর হয়ে এই প্রণালিই আন্তর্জাতিক তেল ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট।
বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুথিরা কৌশলগতভাবে অপেক্ষার অবস্থানে রয়েছে। তারা সরাসরি বড় ধরনের সংঘাতে না জড়িয়ে সীমিত হামলার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি হিসাবকৃত পদক্ষেপ—যার মাধ্যমে তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ বজায় রাখতে চায়।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের একটি নীরব সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, তেল সরবরাহে বিঘ্ন না ঘটানোর বিনিময়ে সৌদি আরব সরাসরি যুদ্ধে জড়াচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ আহমেদ নাগি মনে করেন, হুথিদের এই অবস্থান দুর্বলতা নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলের অংশ। তারা মূলত ইরানের দর কষাকষিতে সহায়তা করতে চায় এবং প্রয়োজন হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
সব মিলিয়ে, হুথিরা যদি সরাসরি বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হামলা বা অবরোধ শুরু করে, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করবে। বর্তমান পরিস্থিতি তাই এক অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?