পারস্য উপসাগরের ইরানি দ্বীপগুলোতে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কোনো অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র-এর মেরিন ও প্যারাট্রুপাররা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে। তারা কার্যত এমন এক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করবে, যেখানে চারদিক থেকেই হামলার আশঙ্কা থাকবে—এক ধরনের “লাইভ শুটিং গ্যালারি”।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, অভিযানের শুরুতে ইরান-এর রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ চালানো হবে, এরপর ব্যাপক বিমান হামলা হতে পারে। তবে মূল চ্যালেঞ্জ শুরু হবে সেনা নামানোর পর।
আকাশপথে ভি-২২ ওস্প্রে, ব্ল্যাক হক বা চিনুক হেলিকপ্টারে করে সেনা নামানোর সম্ভাবনাই বেশি, কারণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে।
ইরানের দ্বীপগুলো—বিশেষ করে খারগ, কেশম ও আবু মুসা—ভূ-প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরক্ষার জন্য উপযোগী। কেশম দ্বীপে রয়েছে সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক, যেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ করা হয়। ফলে সেখানে অবস্থান নেওয়া মার্কিন বাহিনী সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো সরবরাহ ব্যবস্থা। সৈন্যদের খাদ্য, জ্বালানি, গোলাবারুদ ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সামরিক হিসাব অনুযায়ী, একজন যুদ্ধরত সৈন্যকে সচল রাখতে প্রায় নয়জন সহায়ক কর্মীর প্রয়োজন হয়। এই বিশাল লজিস্টিক চাপ যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, ইরান তাদের “মোজাইক ডিফেন্স” কৌশল ব্যবহার করে ছোট ছোট ইউনিটে গেরিলা হামলা চালাবে। এতে মার্কিন বাহিনী স্থায়ীভাবে কোনো অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সব মিলিয়ে, এমন অভিযান সামরিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত ও সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি, তবুও ইরানের ভৌগোলিক সুবিধা ও প্রতিরক্ষা কৌশল যুদ্ধের ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?