সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে সরকার যদি জনগণের ওপর অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তবে তার পরিণতি শুভ হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, অতীতে কর্তৃত্ববাদী শাসকরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণকে দমন করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি।
শনিবার (২৮ মার্চ ) খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঈদ প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, একই প্রক্রিয়ায় গণভোট ও সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে একটিকে বৈধ এবং অন্যটিকে অবৈধ বলা হচ্ছে, যা বিবেকবিরোধী ও প্রতারণার শামিল। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পূর্ণ দায় সরকারের এবং সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর দায়ও সরকারকেই বহন করতে হবে। দেশকে সংঘাতের দিকে এবং জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য না করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, বিপুলসংখ্যক আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে বিরোধী দলে রয়েছে এবং ড. শফিকুর রহমান বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করছেন।
যা দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। জামায়াতে ইসলামী কোনো বিশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসের রাজনীতি সমর্থন করে না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা আপোশহীন থাকবে। সৎ কাজে আমাদের সহযোগিতা এবং অন্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
সংসদের অধিবেশনকে সামনে রেখে তিনি সতর্ক করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ যেন সংবিধান, আইন ও কার্যপ্রণালি বিধির বাইরে না যায়, অন্যথায় নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। দলের সংসদীয় সদস্যদের জন্য ইতোমধ্যে কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।’
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি এবং হিন্দু কমিটির নেতা কৃষ্ণ নন্দী।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুজ্জামানের পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আঞ্চলিক সহকারী পরিচালক খান গোলাম রসুল, খালিশপুর থানা আমির আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর কবীর, মুনসুর আলম চৌধুরী, ব্যবসায়ী নেতা সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিশেষ অতিথি কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ১১ দলীয় জোট আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
তিনি ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিরোধী দলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’