মঈন উদ্দীন, বান্দরবান
চলমান জ্বালানি তেলের সংকট ও পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে সৃষ্ট জনভোগান্তি কমাতে সুষ্ঠুভাবে তেল বিতরণ নিশ্চিত করতে বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী স্থানীয় পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টায় তিনি স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে বান্দরবানের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, জেলা যুবদলের সভাপতি জহির উদ্দিন মাসুম, সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দীন চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
প্রথমে তিনি বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থিত ওজমা ফিলিং স্টেশন (পদ্মা) পরিদর্শন করেন এবং সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে তেল মজুদ রেখে ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার অভিযোগে বান্দরবান বাসস্ট্যান্ড এলাকার পাহাড়িকা ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে মালিকপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে চালু করতে বাধ্য করেন। এ সময় তিনি নিজে উপস্থিত থেকে বাইকারদের মাঝে তেল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন।
এ সময় তিনি বান্দরবানে ভ্রমণে আসা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত টুরিস্ট বাইকারদের উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হলো বান্দরবান। ছুটির মৌসুম ও সাপ্তাহিক ছুটিতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পাহাড়প্রেমীরা এখানে ভিড় জমায়। তারা সবাই বান্দরবানের সম্মানিত অতিথি—তাই তাদের প্রতি আন্তরিকতা ও সহায়তা আরও বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো অধিকাংশই দূরবর্তী ও পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। এসব স্থানে বাইক নিয়ে যাতায়াত করতে পর্যাপ্ত জ্বালানি অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনীয় তেলের অভাবে অনেক সময় বাইকারদের দুর্গম পথে বিপাকে পড়তে হয়। তাই পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাইকারদের প্রতি সার্বক্ষণিক সহযোগিতা প্রদান করা জরুরি।
তিনি উল্লেখ করেন, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় অবস্থিত দেশের দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে দেবতাখুম, তামা তুঙ্গী, বগালেক, চিম্বুক, ডিম পাহাড় এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব স্থানে ভ্রমণ করতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও জ্বালানি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে জ্বালানি সংকটে স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। তবে এমপির সরাসরি হস্তক্ষেপে দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। পর্যটক বাইকাররাও সময়মতো জ্বালানি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় এমপি সাচিং প্রু জেরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।