ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোতে ‘সত্য-প্রতিশ্রুতি-৪’ শীর্ষক প্রতিশোধমূলক অভিযানের ৮২ তম পর্বের হামলাগুলো চালিয়েছে পূর্ব-নির্ধারিত কিছু টার্গেটকে লক্ষ্য করে।
ইহুদিবাদী ইসরায়েলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আরিফজান, আলখারাজ ও মার্কিন প্রতিরক্ষা রসদ সরবরাহের কেন্দ্র (kGL) ছিল এইসব হামলার অন্যতম টার্গেট।
এ ছাড়াও শেইখ ঈসা ঘাঁটিতে প্যাট্রিওট বিমান-বিধ্বংসী স্থাপনা ও এইট-পি গোয়েন্দা বিমানের হ্যাঙ্গার, জ্বালানী তেল সরবরাহের ডিপো, নাইন এম কিউ ড্রোন-এর হ্যাঙ্গার ও আলী আসসালেম নামের ঘাঁটিতে অবস্থিত ড্রোন-পরিচালনার যোগাযোগ উপগ্রহের ডিশ-স্থাপনায় ইরানের নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ও ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনগুলো আঘাত হেনেছে। ইরানের খুররামশাহরে একটি হামলার জবাবে এইসব হামলা চালানো হয়।
এ ছাড়াও অধিকৃত ফিলিস্তিন তথা অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত ইহুদিবাদী ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে, তেলআবিবের কেন্দ্রস্থলে, হাইফায় বেশ কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে ইরানের বিধ্বংসী কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। ইরানের এমাদ, জুলফাকার, কয়েকটি ওয়ারহেডযুক্ত কাদ্র ও খাইবার-শেকান নামের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়েছে এই পর্বের হামলাগুলোয়।
পারস্য-উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘থাড’ (THAAD) নামক ৫টি বিমান-প্রতিরক্ষা ও রাডার-ব্যবস্থার সবগুলোই ইরানি হামলায় হয় ধ্বংস হয়ে গেছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইহুদিবাদী ইসরায়েলেরও বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা এসবের বেশিরভাগই ধ্বংস হয়ে গেছে ইরানি হামলায় এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বাধা দেয়ার কাজে ব্যবহারযোগ্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যাও খুব কমে যাওয়ায় ইসরায়েলি আকাশ এখন প্রায় পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। ফলে প্রতি দশটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এখন অন্তত ৮টিই লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানছে বলে ইসরায়েলি কোনো কোনো সূত্র খবর দিয়েছে।
এর আগে প্রতিশোধমূলক ইরানি অভিযানের ৮১ তম পর্ব বা জোয়ারে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের ৭০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধ্বংসাত্মক আঘাত হানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো।
ইরান এ পর্যন্ত রমজান মাসে শুরু-হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে ৭০০’রও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও তিন হাজার ৬০০’রও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে শত্রুর অবস্থানগুলোতে। অন্যদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রুর নিক্ষিপ্ত ২০০’রও বেশি জঙ্গি বিমান, ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে ইরানের মুজাহিদরা, এর মধ্যে রয়েছে অন্তত ১৩২ টি ড্রোন ও চারটি উন্নত জঙ্গি বিমান। ইরানি হামলায় ইসরায়েলি হতাহতের সংখ্যাও ২৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। এ ছাড়াও হতাহত হয়েছে শত শত মার্কিন সন্ত্রাসী সেনা।
সূত্র : পার্সটুডে
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?