মধ্যপ্রাচে চলমান উত্তেজনার সময় ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রকল্প পুরোপুরি সচল হতে ৫ বছর সময় লাগতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম এই এলএনজি কমপ্লেক্সটির মেরামত কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) নরওয়েভিত্তিক জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জি এই তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির দুটি এলএনজি উৎপাদন ইউনিটে হামলার কারণে তা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কাঠামোগত বাধা তৈরি হয়েছে। রেফ্রিজারেশন কম্প্রেসার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস টারবাইনগুলোর সরবরাহে বিশ্বজুড়ে দুই থেকে চার বছরের বেশি সময় লাগবে।
রিস্টাড এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষতির কারণে কাতারের এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গেছে। এর পরিমাণ বছরে প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ টন।
উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা মূলত অর্থায়নের ওপর নির্ভর করছে না, বরং সরবরাহ ব্যবস্থা এখানে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বিশ্বজুড়ে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান এলএনজি কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় বড় আকারের টারবাইন তৈরি করে।
ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ এবং কয়লার ব্যবহার থেকে সরে আসার বৈশ্বিক প্রবণতার কারণে এই সরবরাহকারীদের ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্রয়াদেশে পূর্ণ রয়েছে।
এর ফলে, তাৎক্ষণিকভাবে মূলধন বিনিয়োগ করা হলেও শুধু যন্ত্রপাতি সংগ্রহের বিলম্বের কারণেই এই কেন্দ্রটি আংশিক সচল হতে কয়েক বছর এবং পুরোপুরি সচল হতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
রিস্টাড এনার্জির সাপ্লাই চেইন রিসার্চ বিভাগের প্রধান আউডুন মার্টিনসেন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে রাস লাফান প্রকল্পের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে।
কাতারের এই সংকট মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বৃহত্তর আঞ্চলিক জ্বালানি বিপর্যয়ের একটি অংশ। এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলএনজি প্ল্যান্ট, শোধনাগার এবং জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রিস্টাড এনার্জি ধারণা করছে, এখন পর্যন্ত মেরামতের খরচ কমপক্ষে আড়াই হাজার কোটি (২৫ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছাতে পারে এবং তা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু স্থাপনা কয়েক মাসের মধ্যে পুনরায় চালু হতে পারে। তবে বিশেষায়িত আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল অন্য স্থাপনাগুলো বছরের পর বছর ধরে বন্ধ থাকতে পারে।
রাস লাফানে দীর্ঘমেয়াদি এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বব্যাপী এলএনজি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ এবং এশিয়ার বাজারগুলো, যা কাতারি রপ্তানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা এর ভুক্তভোগী হবে। কারণ আর্থিক সক্ষমতার চেয়ে উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতিই এই পুনরুদ্ধারের পথে প্রধান বাধা।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?