কক্সবাজার সৈকতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নামে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির এক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সৈকতের কবিতা চত্বর পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোরশেদ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও জানা গেছে।
খোরশেদের বন্ধু শাহজাহান জানান, তিনি মোহাজেরপাড়ায় নিজের বাসার সামনে লুডু খেলছিলেন। তারিন নামে একজন মোবাইলে ফোন করে জানান, কবিতা চত্বর পয়েন্টে খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
কবিতা চত্বর ও শৈবাল পয়েন্টের মাঝামাঝি গিয়ে খোরশেদকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পাশে ছিলেন তারিন, যিনি তখন চিৎকার করে আশপাশের মানুষের সহায়তা চাইছিলেন।
ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেন শাহজাহান।
তিনি আরও জানান, খোরশেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। এ সময় তিনি বারবার পানি চাইছিলেন। পরে
শাহজাহান বলেন, ‘হাসপাতালে নেয়ার আগে তারিনকে জিজ্ঞেস করলে জানায়, দুজন যুবক খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করে এবং তারা ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ খালিদ বিন সাঈদ বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডকে কোনোভাবেই প্রভাবিত বা ভিন্ন খাতে নেয়া যাবে না। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সেসব ফুটেজ সংগ্রহ করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, জুলাই আন্দোলনে রাজপথে থাকা কর্মীরা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।’
এছাড়া খোরশেদকে উদ্ধার করতে যারা এগিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় বলেন, ‘কক্সবাজারের কবিতা চত্বর সৈকতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অন্ধকারে এ ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাত অবস্থায় খোরশেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে ঘটনাটি উদঘাটনে আমরা তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। প্রাথমিকভাবে কারা এবং কী কারণে এ হামলা চালিয়েছে-সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।’