মঈন উদ্দীন,বান্দরবান
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটকদের পদচারণায় আবারও মুখর হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। পাহাড়, ঝরনা আর সবুজে মোড়া প্রকৃতির টানে ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় করছেন একের পর এক দর্শনীয় স্থানে।
জেলার জনপ্রিয় পর্যটন স্পট—মেঘলা, নীলাচল, চিম্বুক, নীলগিরি, শৈলপ্রপাত, দেবতাখুম, নাফাখুম জলপ্রপাত ও রেমাক্রীতে সকাল থেকেই পর্যটকদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। দল বেঁধে চাঁদের গাড়িতে চড়ে পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। কেউ ঝরনার ঠান্ডা জলে সময় কাটাচ্ছেন, কেউবা পাহাড়ি জনপদে গিয়ে উপভোগ করছেন আদিবাসী সংস্কৃতির বৈচিত্র্য। সেই সঙ্গে চলছে স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় ধারণের ব্যস্ততা।
দর্শনার্থীরা জানান, ব্যস্ত নগরজীবন থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে প্রকৃতির মাঝে কাটানো এই সময় তাদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নীলাচল থেকে দেখা পাহাড়-আকাশের অপূর্ব মেলবন্ধন এবং সবুজ বনভূমির বিস্তৃত দৃশ্য তাদের মুগ্ধ করছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই জেলায় রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং (বিজয়) এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কেওক্রাডং। এছাড়া বগালেক, প্রান্তিক লেকসহ আরও অনেক নয়নাভিরাম স্থান পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
একই সঙ্গে মারমা, ত্রিপুরা, মুরুং, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাংখোয়া, চাকমা, চাক ও লুসাইসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দীন বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে আগেই অধিকাংশ আবাসিক হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। অনুকূল পরিস্থিতি থাকলে প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে বান্দরবানে।
বান্দরবান টুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক, শৈলপ্রপাত, দেবতাখুমসহ গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে।
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। পাশাপাশি যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না হয়, সে বিষয়েও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।