মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নাড়ির টানে গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ। এতে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে চাপ বাড়লেও কোথাও উল্লেখযোগ্য যানজটের সৃষ্টি হয়নি, স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে যানবাহন।
টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটির তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকেই এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু এলাকায় যানবাহনের উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়। দুপুরের দিকে চাপ আরও বাড়লেও যাত্রীরা নির্বিঘ্নে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন।
এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী ও পুলিশ সুপার ম্যানহাজুল আলম পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা পরিদর্শন করেন। তারা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন শেখ জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্ত দিয়ে ৮০ হাজার ৪০২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে প্রায় ৯ কোটি টাকা টোল আদায় হয়েছে। তিনি বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি।
তিনি আরও জানান, বড় যানবাহনের জন্য ৭টি এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৩টি পৃথক টোল বুথ চালু রাখা হয়েছে, ফলে দ্রুত টোল আদায় সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া পুরো সেতু এলাকা ১৮১টি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রী হয়রানি রোধ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় যাত্রীরা স্বস্তির সঙ্গে বাড়ি ফিরতে পারছেন, যা এবারের ঈদযাত্রাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছে।