বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি কোচ লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে আন্তঃনগর ট্রেনটি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পরপরই এই কমিটি গঠন করা হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধান পরিবহন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে যন্ত্র প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রধান সংকেত প্রকৌশলী সদস্য হিসেবে রয়েছেন। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় আদমদীঘির বাগমারি এলাকায় প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা রেললাইন পরিবর্তনের কাজ করছিলেন। সে সময় লাল পতাকা প্রদর্শন এবং সান্তাহার স্টেশন থেকে লোকোমাস্টারকে ‘কশান অর্ডার’ বা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে চালক সেই নির্দেশনা অনুসরণ না করায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে। সান্তাহার স্টেশন অতিক্রম করে তিলকপুরের দিকে যাওয়ার পথে বেলা ১১টার দিকে বাগমারি এলাকায় ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে অন্তত ৬৬ জন যাত্রী আহত হন। তাদের মধ্যে ২০ জন নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় ওই রুটে ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সেকশন ক্লিয়ার না হওয়া পর্যন্ত পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের যাত্রা বিলম্বিত হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে চিলাহাটি, দ্রুতযান ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়েই ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসকে বিকল্প পথে পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানান, দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সাময়িক ভোগান্তির জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তিনি আরও জানান, আগামীকাল সকালে ঢাকা থেকে নীলসাগর ও একতা এক্সপ্রেসের যাত্রা কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে।