পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় একটি কর্মীসভায় দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে দশমিনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহ আলম শানু বলেন, “যারা আজকের মিটিংয়ে আসেনি, তাদের ছবি তুলে রাখুন। যারা বিএনপিকে মানে না, তারা ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড পাবে না।”
উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নে আয়োজিত বিএনপির একটি কর্মীসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা কৃষি কার্ড সরকারি বা জনকল্যাণমূলক সুবিধার আওতায় পড়ে। এগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতে দেওয়া বা না দেওয়ার কথা বলা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বা সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা বা হুমকি দেওয়া উচিত নয়।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির কিছু নেতাকর্মী দাবি করছেন, বক্তব্যটি হয়তো আবেগের বশে বলা হয়েছে অথবা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তবে বিরোধী মতের মানুষজন বলছেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার এমন মন্তব্য গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা বা স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নেতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব বক্তব্য দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।