ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি ঘোষণা করেছেন, পবিত্র এই ভূখণ্ড রক্ষায় ইরানের সেনারা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইসলামী ইরানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে সেনাবাহিনী কোনো ধরনের আপস করবে না। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই বক্তব্যকে শক্ত প্রতিরোধের অঙ্গীকার হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
পার্সটুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ বুধবার চলমান যুদ্ধে শাহাদাৎবরণকারী কমান্ডারদের শেষ বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় মেজর জেনারেল আমির হাতামি এই বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের মুহূর্তগুলোতে সহযোদ্ধা ও অভিজ্ঞদের উপস্থিতি হৃদয়কে দৃঢ় করে তোলে। তবে যারা শাহাদাতের মর্যাদা অর্জন করেছেন তাদের গৌরব আরও মহান। তার মতে, শাহাদাত এমন এক মর্যাদা যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সর্বোচ্চ পথগুলোর একটি।
তিনি বলেন, কত বড় সৌভাগ্য যে আমাদের সহযোদ্ধারা শাহাদাতের মহান মর্যাদা অর্জন করেছেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছেছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতির জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। শহীদ কমান্ডারদের স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের রক্ত কখনো বৃথা যাবে না এবং তাদের আত্মত্যাগ ইরানের প্রতিরোধ শক্তিকে আরও দৃঢ় করবে।
মেজর জেনারেল আমির হাতামি আরও বলেন, মহান ইমাম খোমেনি এবং প্রিয় খামেনেয়ীর প্রকৃত অনুসারীরা মালিক আশতারের মতো শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষা করবে। তিনি বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী ইসলামী বিপ্লবের আদর্শে বিশ্বাসী এবং সেই আদর্শ রক্ষায় তারা সব ধরনের ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুদের উদ্দেশ্য ইরানকে ভয় দেখানো এবং প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়া। কিন্তু শহীদদের রক্ত ইরানের জনগণ ও সেনাদের আরও দৃঢ় করেছে। তার মতে, এই যুদ্ধ শুধু ভূখণ্ডের জন্য নয়, বরং জাতির সম্মান ও স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি ঐতিহাসিক লড়াই।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় শহীদ হওয়া কমান্ডারদের শেষ বিদায় অনুষ্ঠান আজ তেহরানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে সেনাবাহিনী, বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের বিপুল উপস্থিতিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইরানের প্রতিরোধ মনোভাব আরও জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?