ইরানেও ওপর চাপিয়ে দেওয়া দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের অসম যুদ্ধের কারণে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচে। এতে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বাজারে। হুহু করে বাড়ছে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম। এমতাবস্থায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলো।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্ববাজারে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে একমত হয়েছে দেশগুলো। যা ইতিহাসে জরুরি তেলের মজুত থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ সরবরাহ।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং লাফিয়ে বাড়তে থাকা দাম নিয়ন্ত্রণে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল সংস্থার ওয়েবসাইটে সরাসরি প্রচারিত এক বক্তব্যে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যে পরিমাণ সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে আইইএ দেশগুলো বাজারে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়বে।’
বিরোল আরও যোগ করেন, বাজারে এই বিঘ্ন ঘটার তাৎক্ষণিক প্রভাব লাঘব করাই এই বড় পদক্ষেপের লক্ষ্য। তবে স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, তেল ও (প্রাকৃতিক) গ্যাসের স্থিতিশীল প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় যাতায়াত শুরু হওয়া।
এই রেকর্ড পরিমাণ সরবরাহ ২০২২ সালের ১৮ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলকেও ছাড়িয়ে গেছে, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দুই দফায় বাজারে ছাড়া হয়েছিল। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে আরও ১৮ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রি করেছিল।
এই বিশাল পরিমাণ তেল ছাড়ার ঘোষণা দিলেও, তা হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৃষ্ট বিশাল সরবরাহ ঘাটতি পূরণে খুব সামান্যই ভূমিকা রাখতে পারে। সাধারণত বিশ্বের মোট দৈনিক তেল উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে নিরাপত্তার কারণে ট্যাঙ্কার চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ফার্ম ‘এনার্জি অ্যাসপেক্টস’-এর প্রতিষ্ঠাতা অমৃতা সেন আইইএর ঘোষণার আগে একটি নোটে লিখেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পণ্যের তুলনায় এই ৪০ কোটি ব্যারেল খুবই ‘নগণ্য’। আরেক হিসাব অনুযায়ী, অবরুদ্ধ তেলের পরিমাণ দৈনিক ২ কোটি ব্যারেল।
অমৃতা সেন আরও যোগ করেন, ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ‘মাত্র ২৫ দিনেই ফুরিয়ে যাবে,’ যা হারানো সরবরাহ পুষিয়ে দিতে পারবে না এবং ‘দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য খুব সামান্য পথই খোলা রাখবে।’
প্রকৃতপক্ষে, আইইএর এই ঘোষণা তেলের দাম কমাতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। বিরোলের বক্তব্যের পর বিশ্ব তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ২.৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
সূত্র:সিএনএন।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?