নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার খাদ্য উপপরিদর্শক শরীফা আক্তারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। উপজেলার
“খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির” একজন পরিবেশকের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত কয়েকদিন আগে এলাকার লোকজন ওই কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেন। এরপরও শরিফা আক্তার বহাল তবিয়তে আছেন। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও চিত্র “৫২ টিভি” নেত্রকোনা প্রতিনিধির কাছে এসেছে। তবে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার দাবি তিনি ভিডিওর বিষয়ে জানেন না।
শরিফা আক্তার আটপাড়া উপজেলার শুনুই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১৪ খাদ্য উপ পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে নিজ উপজেলায় যোগদান করে অদ্যাবধি পর্যন্ত কর্মরত আছেন।
জানা গেছে, শরিফা আক্তার ২০১৪ সালে আটপাড়া উপজেলায় খাদ্য উপ পরিদর্শক পদে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি অদ্যাবধি পর্যন্ত একই স্টেশনে কর্মরত আছেন। এদিকে সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে আটপাড়া উপজেলা গঠিত। সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি “ওএমএস” এবং ১৪ টি “খাদ্য বন্ধক কর্মসূচি” পরিবেশক রয়েছে। সরকার নির্ধারিত সময়ে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে “ওএমএস” এর পরিবেশকের মাধ্যমে ১৫টাকা ও “খাদ্য বন্ধক কর্মসূচি” পরিবেশকের মাধ্যমে ৩০টাকা মূল্যে চাল বিক্রি করা হয়। এসব ডিলারদের কাছ থেকে চালান প্রতি পনেরশ টাকা নেন উপজেলা খাদ্য উপ পরিদর্শক শরীফ আক্তার। এরকম একটি ভিডিও ফুটেজ কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় লোকজন শরীফ আক্তারের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে আটপাড়া উপজেলার খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির একাধিক পরিবেশক বলেন, “ওএমএস” ও “খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি” চাউল উত্তোলনের আগে ব্যাংকে চালান জমা দিতে হয়। ওই চালান জমা দেওয়ার আগে খাদ্য উপ পরিদর্শক শরীফ আক্তার ১৫ শ’ টাকা নেন। এটি এখন আটপাড়া উপজেলায় ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে। সবাই জানে কিন্তু কেউ বলতে পারে না।
ভিডিওতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে আটপাড়া উপজেলা খাদ্য উপ পরিদর্শক শরিফা আক্তার বলেন, এই ভিডিওটি অনেক আগের। ডিলার যে টাকাটি আমাকে দিয়েছিল সেটির ঘুষের টাকা নয়। তিনি চালানের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে না পারার কারণে আমার কাছে জমা দিয়ে চাল উত্তোলন করেন। পরে আমার অফিসের লোক দিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক কারণে উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের ডিলার নিয়ে একটি ঝামেলা ছিল। পরে এলাকার গণ্যমান্য লোকজন বসে এই সমস্যাটির সমাধান করা হয়েছে।
শরীফা আক্তারের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন হওয়ার বিষয়টি জানেন না জেলা খাদ্য কর্মকর্তার মোয়েতাছেমুর রহমান। তিনি জানান, ঘুষ লেনদেনের কোন প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।