ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালালেও তা সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই সামান্য। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক অত্যন্ত গোপনীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। শনিবার (৭ মার্চ) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই কথা জানানো হয়।
মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের (এনআইসি) তৈরি করা এই শ্রেণিবদ্ধ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এমনকি যদি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকেও হত্যা করা হয়, তবু দেশটির সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব বিদ্যমান উত্তরাধিকার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হতে পারে।’
১৮টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত মতামতের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন তৈরি করা হয়েছে। তবে এই মূল্যায়নটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, তিনি চাইলে ইরানের নেতৃত্বকে ‘সরিয়ে’ নিজের পছন্দের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে। এতে সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়—যেমন সীমিত হামলা বা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বড় ধরনের আক্রমণ হলে কী ঘটতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হলেও দেশটির সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব বিদ্যমান উত্তরাধিকার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে বর্তমান ক্ষমতাকাঠামো ধরে রাখতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো আরও বলেছে, ইরানের বিভক্ত বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোও পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ক্ষমতা দখল করতে পারবে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম।
তবে প্রতিবেদনে অন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপ—যেমন ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী মোতায়েন করা বা বিদ্রোহ উসকে দিতে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়ার মতো কৌশল—বিশ্লেষণ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। ওই হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনি, শতাধিক স্কুলছাত্রী এবং অনেক সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন।
এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং ইসরায়েলের একাধিক শহরে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, আনাদোলু এজেন্সি
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?