ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ঘোষণা করেছেন, শত্রুরা ইরানের আত্মসমর্পণের স্বপ্ন দেখলেও সেই আশা কখনোই বাস্তবায়িত হবে না। তিনি বলেন,
যারা মনে করছে ইরানকে ভয় দেখিয়ে নতজানু করা যাবে, তাদের সেই প্রত্যাশা ধুলিসাৎ হয়ে যাবে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই ভিডিও বার্তায় তিনি দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তাসনিম বার্তাসংস্থার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার ভাষণে গভীর শোক প্রকাশ করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ির শাহাদাত এবং সাম্প্রতিক হামলায় নিহত স্কুল শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের দাবি করা শক্তিগুলো আন্তর্জাতিক আইনকে প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। তার অভিযোগ, তারা যেখানে খুশি সেখানে বোমাবর্ষণ করছে এবং স্কুল, হাসপাতালসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও রেহাই পাচ্ছে না।
প্রেসিডেন্ট জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যত কষ্টই আসুক আপনারা প্রতিরাতে রাজপথ ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্কয়ারগুলোতে অবস্থান নিন। তিনি আহ্বান জানান, যে কোনো ইরানি নাগরিক—সে যে মাজহাবের হোক, যে ধর্মের হোক কিংবা যে বর্ণেরই হোক—সবাই যেন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে এক কাতারে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব এখন সবার। জনগণ যদি রাজপথে উপস্থিত থেকে প্রতিবাদ ও স্লোগান অব্যাহত রাখে, তবে শত্রুরা হতাশ হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ভেতরে মতপার্থক্য থাকলেও আজ সেই বিভাজন ভুলে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। হাতে হাত রেখে দেশের মাটি ও পানিকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যতদিন জীবন আছে ততদিন শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলে আমরা মাথা উঁচু করে চলমান সংকট অতিক্রম করব। তার মতে, জাতীয় ঐক্যই বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, বিনা শর্তে ইরান আত্মসমর্পণ করবে—শত্রুদের এমন প্রত্যাশাকে আমরা দুরাশায় পরিণত করব। তাদের স্বপ্নকে আমরা কবরে পাঠিয়ে দেব। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরান কখনোই পরাশক্তির চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের সামরিক হামলার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইসরায়েল মার্কিন আগ্রাসনে আমরা সর্বোচ্চ নেতাকে হারিয়েছি এবং শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদেরও হারিয়েছি। এই কঠিন পরিস্থিতিতে কমান্ডারবিহীন অবস্থায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করছে যাতে দেশ আত্মরক্ষা করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত চাই না। বরং আমরা সব সময় বলেছি যে প্রতিবেশীরা আমাদের প্রিয় ভাই এবং সবাই মিলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
জনগণের উদ্দেশে শেষ বার্তায় তিনি বলেন, সরকার চেষ্টা করছে যাতে সাধারণ মানুষের কোনো কষ্ট না হয়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে দেশ এখন এক সর্বাত্মক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহ যেন জাতিকে এমন ঈমান ও শক্তি দান করেন যাতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতির সম্মান রক্ষায় সবাই দৃঢ় ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে যারা মনে করছে এখনই ইরানের ভেতরে হামলা চালানোর সুযোগ এসেছে। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হাতিয়ারে পরিণত না হয় এবং পরিস্থিতিকে আরও জটিল না করে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?