মেহেদী হাসান রাতুল ( সিলেট ),
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি রাস্তার ইট চুরির অভিযোগে উপজেলা যুব জামায়াতের এক নেতাসহ ছয়জনকে আটকের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি ইট উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের একটি সরকারি রাস্তা থেকে ইট চুরির অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)–এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা।
অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ইট উদ্ধার করা হয়। এ সময় উপজেলা যুব জামায়াতের এক নেতাসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়। তবে প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আটক ব্যক্তিদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসকনকপুর ইউনিয়নের একটি সরকারি রাস্তার থেকে রাতের আঁধারে ইট সরিয়ে নেওয়া হয়েছিলো। এরপর থেকেই বিষয়টি সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুক এ ব্যাপক ভাইরাল হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সরিয়ে নেওয়া ইটের অনুসন্ধান করে বিভিন্ন বাড়িতে ইট গুলো লুকিয়ে রাখার বিষয়টি টের পেয়ে প্রশাসনকে খবর দিলে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় কয়েকটি বাড়ি ও আশপাশের স্থান তল্লাশি করে কিছু ইট উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া ইটের পরিমাণ কয়েক হাজারেরও বেশি হতে পারে। তবে প্রশাসন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঠিক পরিমাণ জানাতে চায়নি।
উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, “সরকারি সম্পদ চুরি বা আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ইট উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সামগ্রী চুরি বা আত্মসাতের ঘটনা বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। তাদের আশা, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে।