নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামীকাল, ২৭ ফেব্রুয়ারি, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ত্যাগ করবেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বসবাস করে আসছিলেন তিনি। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা ও সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে যমুনাকেই তার সরকারি বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষ হলেই প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর এলাকাকে নতুন বাসভবন হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সময়স্বল্পতা ও অন্যান্য কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইউনূস তার সরকারের মেয়াদকালেই কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার মিলিয়ে প্রায় ২০ জন কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন, যার অধিকাংশই নির্বাচনের আগেই তা জমা দেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ ভিশন—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ—কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়নি।
বিদেশ থেকেও বিভিন্ন সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। এসব সফর ও কর্মসূচির সমন্বয় করছেন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। কোথাও তিনি সরাসরি অংশ নেবেন, আবার কোথাও ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেবেন—এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি যমুনায় অবস্থান করছিলেন। আগামীকাল বাসভবন ত্যাগের মাধ্যমে তার এই অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।