সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার আটপাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর ধানের শীষ প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা করার অভিযোগ ওঠেছে। রবিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার অভয়পাশা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থক মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়া নামে দুইজন আহত হয়েছে। তারা নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  মোখলেছুর রহমান পরশ উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০:০৮

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

নেত্রকোনার আটপাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর ধানের শীষ প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা করার অভিযোগ ওঠেছে। রবিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার অভয়পাশা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থক মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়া নামে দুইজন আহত হয়েছে। তারা নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

মোখলেছুর রহমান পরশ উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সুবহান মিয়ার ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। পরশ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বাচ্চু মিয়া একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সভাপতি ও অভয়পাশা বাজারের বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

অভিযুক্ত রবিকুল ইসলাম একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও আড়াগাও গ্রামের বাসিন্দা। 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলালের সমর্থক হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা করেন। পরে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী সমর্থকরা দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এদিকে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয় লাভ করেন। এ থেকে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। রবিবার রাতে অভয়পাশা বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে মোখলছুর রহমান অভয়পাশা মধ্য বাজারে পৌঁছার পর রবিকুল ইসলাম, রহিছ আলামিন, লালন ও রাজু তাদের লোকজন নিয়ে হামলা করেন। এ সময় মোখলেছুর রহমান ও অভয়পাশা বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের ভর্তি করেন। 

ভুক্তভোগী মোখলেছুর রহমান পরশ বলেন, ৫আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর রবিকুল ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোনা মিয়া অভয়পাশা বাজারে লুটপাট করার চেষ্টা করেন। আমি ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত দুইবারের সাধারণ সম্পাদক এবং দুইবারের সভাপতি। ওই ইউনিয়ন থেকে ধানের শীষ প্রতীকের ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করেছি। ওই হিসেবে আমি বাজারে লুটপাট এবং ভাঙচুর করতে দেয়নি। এরপর তারা আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে নির্বাচন করেছি। নির্বাচন চলাকালীন সময় থেকে আমাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল তারা। রবিবার রাতে অভয়পাশা বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় মধ্য বাজারে রবিকুল, রহিছ, আল আমিন ও লালন তাদের লোকজন নিয়ে আমার উপর হামলা করে। এ সময় বাজারের বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়াকেও তারা মারপিট করে।

অভয়পাশা বাজারের সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়া বলেন, অভয়পাশা বাজারের ইজারার শিডিউল সোমবার জমা দেওয়ার শেষ দিন। ইজারার বিষয়ে মোখলেছুর রহমান ও আমরা মিটিং করে রাত ১২টার দিকে বাড়িতে যাচ্ছিলাম। মধ্য বাজারে রবিকুল তার লোকজন নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এ সময় মোখলেছুর রহমান ও আমি আহত হই। পরে আমার সাথে থাকা ৫৮ হাজার টাকা তারা নিয়ে যায়।

অভিযুক্ত স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি’র সভাপতি রবিকুল ইসলাম বলেন, রাতে আমি অভয়পাশা বাজারে ছিলাম। হঠাৎ মানুষের ডাক চিৎকার শুনতে পাই। পরে গিয়ে শুনি মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়ার উপর কে বা কারা হামলা করেছে। এখন আমাদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না।

শ্বরমুশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান রিপন ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায় কমিটির সদস্য আয়াতুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে যারা কাজ করেছে তাদেরকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। রবিবার রাতে অভয়পাশা বাজার ইজারার বিষয় নিয়ে মোখলেছুর রহমান পরশ ও অভয়পাশা বাজারে বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়া বাজারে মিটিং শেষ করে বাড়ি যাওয়ার পথে রবিকুল তার লোক জন্য হামলা করে। এটি অত্যন্ত নেক্কা ষরজনক ঘটনা। এ ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

আটপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাসুম চৌধুরী জানান, শুনেছি অভয়পাশা বাজারে রবিবার রাতে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই ঘটনাটি রাজনৈতিক কোন বিষয় না। এটি তাদের দু’পক্ষের বিষয়।

নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আরএমও মো. মাজহারুল আমীন বলেন, আটপাড়ার মোখলেছুর রহমান পরশ ও বাচ্চু মিয়া নামে দুইজন আহত রোগী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জোবায়দুল আলম জানান, রবিবার রাতে অভয়পাশা বাজারে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সকালে পুলিশ সেনাবাহিনী সহ আমি অভয়পাশা বাজারে গিয়েছিলাম। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে মারামারি হওয়ার বিষয়টি জানিনা। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।