মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ
ইফতারের অনুসঙ্গ খেজুর, আঙুর, আনার আপেলের দাম আকাশচুম্বী
মেহেরপুরের গাংনীতে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। চাহিদাকে পুঁজি করে নিত্যপণ্যের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। আর এই উত্তাপ ছড়িয়েছে ফলের বাজারেও। কেউ বেশি দামে মালামাল বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
রোজার আগে যে ফল সাধারণ মানুষের নাগালে ছিল, তা কয়েকদিনের ব্যবধানে বেড়েছে কয়েকগুণ। খুচরা বাজারে ইফতারের প্রধান উপকরণ খেজুর থেকে শুরু করে আঙুর, আনার বা আপেল—সবকিছুর দামই এখন আকাশচুম্বী। ক্রেতাদের অভিযোগ, অতি মুনাফা লুটছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বাড়তি চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এবারও ফাহিদা নিচ্ছেন।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে দেশি-বিদেশি ফলের দাম বাড়তি। দেশীয় ফল কলার ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা। তরমুজের মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হলেও আকারভেদে কেজিপ্রতি দাম চাওয়া হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। পেয়ারার দাম বেড়ে আকারভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আর আকারভেদে প্রতিটি আনারস ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিদেশি ফলের মধ্যে রোজায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে খেজুর, মাল্টা ও আপেলের। এর মধ্যে মাল্টা ও আপেলের দাম বেড়েছে। মাল্টার দাম বেড়ে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর আপেলের কেজি প্রকারভেদে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। দেশি পেঁপের দামও কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। কালো আঙুর ৬০০ টাকা এবং সবুজ আঙুর ৪৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মেডজুল খেজুর যার প্রতি কেজির দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। মরিয়ম খেজুর দেশ ও আকার ভেদে ৭০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা, কালমি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, সুকারি ৮০০ টাকা এবং মিনিফি খেজুর ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দামের শীর্ষে রয়েছে আনার; মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬২০ টাকায়।
এছাড়া গ্রিন আপেল ও ড্রাগন ফল ৪২০ টাকা, ফুজি আপেল ও নাশপাতি ৪০০ টাকা এবং কমলা ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামের ফলের তালিকায় বরই ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, পেয়ারা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বেল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি ফলের সরবরাহ থাকলেও রমজান উপলক্ষে এগুলোর দামও আগের তুলনায় বেড়েছে বলে জানান ক্রেতারা।
দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে মালেক ফল ফান্ডারের ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক জানান, পাইকারিতে যেমন দামে কিনি, সীমিত লাভে তেমন দামেই বিক্রি করি। অনেক সময় ফলের নিচে নষ্ট বের হয়, সেই লোকসানও গুনতে হয়। ফল ব্যবসায়ি রফিক জানান, আমদানি খরচ বৃদ্ধি এবং রমজানে বাড়তি চাহিদাই মূলত খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলেছে। কাঁচাপণ্য বিক্রি করা খুব কঠিন। একেক দিন একেক দাম থাকে।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, ইতোমধ্যে বাজারের ব্যবসায়িদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। দর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যবসায়িকে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের জন্য বলা হয়েছে। বাজার পরিদর্শন ও মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ বেশি দামে মালামাল বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।