রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবরে চাঁদাবাজি ও গণছিনতাইয়ের লাগামহীন দৌরাত্ম্যে ক্ষুব্ধ হয়ে থানা ঘেরাও করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি রাতেই তারা আদাবর থানা ঘেরাওয়ের পাশাপাশি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ এদিন বিস্ফোরিত রূপ নেয়, যখন চাঁদার দাবিতে সন্ত্রাসীদের হামলায় রক্তাক্ত হন একাধিক এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর আদাবর এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় এমব্রয়ডারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মালিক ও শ্রমিকদের কুপিয়ে গুরুতর আহত করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও গণছিনতাই চালিয়ে আসছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নিয়মিত হুমকি, মারধর ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, অথচ কার্যকর প্রতিকার মিলছে না।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে রাতেই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীসহ শত শত মানুষ আদাবর থানা ঘেরাও করেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। রাত ১টার দিকেও থানা ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি চলছিল। এ সময় নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের নীরবতা কিংবা শিথিলতার সুযোগ নিয়েই অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, দিনের পর দিন চাঁদাবাজি চললেও কেন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
থানা ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে শনিবার রাত ১টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মোহাম্মদপুরের সহকারী কমিশনার এসি মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, আদাবরে চাঁদার জন্য এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করার ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। অপরাধী যে হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তার এই আশ্বাস সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা দাবি করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, চাঁদাবাজি ও গণছিনতাই যদি সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে, তবে তা ভেঙে দিতে সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন। অন্যথায় সাময়িক আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। এখন নজর পুলিশের তদন্তে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কত দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় তার ওপরই।