শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

তারুণ্যের ভাবনায় অমর একুশ

আবু তাহের, জাককানইবি একুশ মানে মুক্তি, একুশ মানে চেতনা। একুশ মানে বাংলাকে নিয়ে কোনো সমঝোতা না করে লড়াই করা। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির গর্বের দিন। সালাম, রফিক, শফিক, বরকত ও জব্বারের মতো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলা পেয়েছিল রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি। তরুণ প্রজন্মের কাছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি কী অর্থ বহন করে? একুশ নিয়ে তাদের ভাবনা কী? তারুণ্যের […]

তারুণ্যের ভাবনায় অমর একুশ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৩৯

আবু তাহের, জাককানইবি

একুশ মানে মুক্তি, একুশ মানে চেতনা। একুশ মানে বাংলাকে নিয়ে কোনো সমঝোতা না করে লড়াই করা। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির গর্বের দিন। সালাম, রফিক, শফিক, বরকত ও জব্বারের মতো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলা পেয়েছিল রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি।

তরুণ প্রজন্মের কাছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি কী অর্থ বহন করে? একুশ নিয়ে তাদের ভাবনা কী? তারুণ্যের ভাবনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন দৈনিক সকালে’র প্রতিনিধি আবু তাহের।

শিক্ষার্থী সেবিকা তালুকদার বলেন, ‘অমর একুশ কেবল একটি তারিখ নয়; এটি ভাষার অধিকার, আত্মপরিচয় এবং মুক্ত চিন্তার জন্য আত্মত্যাগের চেতনার প্রতীক।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের শক্তি যতই প্রবল হোক, মানুষের আত্মপরিচয়ের আকাঙ্ক্ষা তার চেয়ে শক্তিশালী। মাতৃভাষায় কথা বলা, লেখা ও ভাবা কেবল অভ্যাস নয়,

এটি অর্জিত অধিকার, যা শহীদদের ত্যাগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অমর একুশ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা মানে চিন্তার স্বাধীনতা রক্ষা করা, ন্যায় ও সঠিকের পক্ষে দাঁড়ানো মানে প্রকৃত নাগরিকত্বের প্রকাশ।

তাই একুশ আমাদের শিখিয়েছে—ভাষাকে ভালোবাসা, শুদ্ধভাবে চর্চা করা, বৈচিত্র্যকে সম্মান করা এবং এই চেতনাকে আগামীর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে জাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা আমাদের অন্যতম’

শিক্ষার্থী নাইম বলেন, ‘২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক গভীর অনুভূতির দিন। এই দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার জন্য যে তরুণরা জীবন দিয়েছিলেন,

তাদের ত্যাগ আমাদের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাঙ্গণে ভাষার দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা ছিল ন্যায় ও আত্মমর্যাদার সংগ্রাম। শহীদ সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বার-এর আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে—ভাষা শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি,

চিন্তা ও অস্তিত্বের ভিত্তি। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও স্বীকৃত, যা ঘোষণা করেছে UNESCO। এর মাধ্যমে সারা বিশ্বে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আমার মনে হয়, ভাষা দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য তখনই পূর্ণ হবে,

যখন আমরা নিজের ভাষাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করব, শুদ্ধভাবে লিখব ও বলব, এবং অন্যের মাতৃভাষাকেও সম্মান করব। বাংলা ভাষা আমাদের গর্ব, আমাদের পরিচয়। তাই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলি—আমরা যেন বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি, লালন করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরি।’

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আমার কাছে শুধু ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, এটা আমাদের হৃদয়ের গভীরে গাঁথা এক অমলিন অনুভূতি।

এই দিনের ভেতরে আছে ভাষার জন্য ভালোবাসা, আত্মত্যাগ আর অদম্য সাহসের গল্প। নিজের মাতৃভাষাকে নিজের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বাঙালিকে রাজপথে নামতে হয়েছে,

বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে হয়েছে বুলেটের সামনে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের বাংলা ভাষার মর্যাদা। আজ আমরা যে ভাষায় স্বপ্ন দেখি, হাসি-কাঁদি,

মনের সব কথা প্রকাশ করি,সেই ভাষা আমাদের কাছে এসেছে শহিদদের ত্যাগের পথ ধরে। তাই একুশ মানে শুধু স্মৃতি নয়, একুশ মানে আত্মপরিচয়ের অহংকার, একুশ মানে বাঙালির চিরন্তন চেতনা।’

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী সারায়াত জামান বলেন, ‘অমর একুশ কেবল অতীতের কোনো স্মৃতি নয়; এটি ভাষা, পরিচয় ও আত্মসম্মানের প্রতীক। একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর দৃষ্টিতে একুশ মানে নিজের ভাষার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রেরণা।

১৯৫২ সালের আত্মত্যাগ আমাদের বাংলায় কথা বলার স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। সেই ত্যাগের প্রকৃত সম্মান তখনই রক্ষা হবে, যখন আমরা আনুষ্ঠানিক স্মরণের বাইরে গিয়ে প্রতিদিনের জীবন, চিন্তা ও আচরণে ভাষার মর্যাদা বজায় রাখবো।’

শিক্ষার্থী তাসকেরাতুন নূর বর্না বলেন, ‘বাঙালি জাতি বীরের জাতি, যার অন্যতম সৃষ্টি মহান একুশ। একুশ—একটি চেতনা, একটি বৈশ্বিক প্রতীক এবং ভাষাগত অধিকার প্রতিষ্ঠার মহাবিস্ফোরণ।

১৯৪৭-পরবর্তী পাকিস্তানি রাষ্ট্রকাঠামো উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রচেষ্টায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষার অধিকার অস্বীকার করে। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সংগঠিত আন্দোলন,

যা ১৯৫২ সালে চূড়ান্ত রূপ নেয়। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হলে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিতে গড়ে ওঠে শহীদ মিনার এবং প্রতিবছর পালন করা হয় শহীদ দিবস। একুশে ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগ বাঙালিকে তার ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেছে এবং পরবর্তী সকল আন্দোলনের প্রেরণা জুগিয়েছে। এই একুশের চেতনা আজও বাঙালি জাতির মনে অবিনাশী শক্তি হয়ে গ্রথিত আছে।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান লেলিন বলেন, ‘২১ সংখ্যাটা তেমন বড় না হলেও আমার কাছে এই সংখ্যার ভার অনেক বেশি। কারণ এই একুশ ছিল বলেই হয়তো আজ আমি, আমরা—নিজেদের জানতে,

চিনতে এবং নিজেদের মতো করে আবিষ্কার করতে পারছি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যে বিষয়টির উন্মেষ ঘটেছিল,

তা হলো বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা এবং নিজের জাতিসত্তার প্রতি দায়বদ্ধতা। পরবর্তীতে সেটিই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ হিসেবে অঙ্কুরিত হয়েছে। আমি যেহেতু নৃবিজ্ঞানের ছাত্র,

তাই আমার জায়গা থেকে বললে বলতে হয়—ভাষা শুধু ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়; ভাষা আমাদের বাস্তবতা ও চিন্তার জগত বিনির্মাণের অন্যতম হাতিয়ার (স্যাপির–উরফ তত্ত্ব অনুযায়ী)।

আরেকটু বৈজ্ঞানিকভাবে বললে, ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মস্তিষ্কে নিউরনের গঠনচিত্রও ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। যদি ২১ না থাকত, তবে আমরা আমাদের চিন্তা ও ভাবনার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলতাম।

২১ ছিল বলেই আমরা নিজেদের জানতে, চিনতে এবং নিজেদের পরিবেশ-প্রতিবেশকে নিজের মতো করে জানতে পারছি। একুশ ছিল বলেই এত সহজ ও সাবলীল চিন্তার খেলায় মেতে উঠতে পারি আমরা—

জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, জসিমউদ্দীনের নকশীকাঁথা কিংবা নজরুলের বিদ্রোহী সত্তাকে ধারণ করতে পারি নিজের মধ্যে। আমাদের জীবনবোধের যে অনন্যতা ও স্বকীয়তা, সেটাও কিন্তু একুশেরই অবদান। যেমনটা আগেই বলেছি, ২১ শুধু ভাষার স্বাধীনতার স্বাদই দেয়নি;

২১ আমাদের ভেতরের স্বাধীনচেতা সত্তাকে জাতীয়তাবাদের রূপে জাগ্রত করেছে, আমাদের প্রস্তুত করেছে নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনের লড়াইয়ের জন্য। আর তাই তো—একুশ আমার অস্তিত্ব, একুশ আমার শেকড়।’

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার […]

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:০৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আলতাফ হোসেন শরিফ ওসমান হাদিকে কটূক্তিমূলকভাবে ‘জংলি’ আখ্যা দেন।

ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাদির নাম জড়িয়ে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মতে চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘হাদিকে যিনি জংলি বলেন, তিনি নিজেই জঞ্জাল’, ‘আপনি জংলি কাকে বলেন? জুলাই যোদ্ধাকে?’, ‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা সবাই জংলি, এই জঙ্গলে আমরা এমন শিক্ষক চাই না’—ইত্যাদি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপতৎপরতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা,

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নামে হল বা স্থাপনার নামকরণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন বিপ্লবীকে ‘জংলি’ বলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও জাতির সম্মানকে অপমান করার শামিল। তারা দাবি করেন, যিনি জাতির বিবেক গঠনের দায়িত্বে আছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে আবারও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা মাথাচাড়া দিতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন বর্তমানে স্কটল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।