জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত নতুন সরকার পররাষ্ট্রনীতিতে আপসকামী নয়, বরং আত্মমর্যাদাবোধ নিয়ে এগোতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
গণতান্ত্রিক সরকারের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’—যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তে দেশের সার্বভৌম স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ বিবেচ্য।
বৃহস্পতিবার দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভিসা জটিলতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে কাজ চলছে। তার মতে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের ফলে কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, মেরুদণ্ড সোজা রেখে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা, সংলাপ ও পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা—এই নীতিতেই এগোবে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে যে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ অঙ্গীকার করেছিলেন, তা বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে জানান শামা ওবায়েদ। কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রতিটি নাগরিকের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এখানে কর্মরত কর্মকর্তারা অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ। তাদের সমন্বয়ে কাজ করে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তার নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় আরও কার্যকর হবে।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক—উভয় পর্যায়েই বাংলাদেশ সক্রিয় কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। তার ভাষায়, এখন সময় এসেছে বাংলাদেশকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার।